গ্রাম পঞ্চায়েতে ”দলবদল” নিয়ে শাসকদলকে তুলোধনা শুভেন্দুর

মেদিনীপুর, ২৬ আগস্ট (হি স)। রাজ্য আরোপিত ১৪৪ ধারা জারির নির্দেশ খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্ট সভার অনুমতি দিয়েছিল। আর শনিবার সেই সভা থেকেই গ্রাম পঞ্চায়েতে ”দলবদল” নিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে তুলোধনা করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, ”আমি পদত্যাগ করে দলবদল করেছি..”,

এদিন তিনি বলেন, ”কারসাজি করে জনকা গ্রাম পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। কোথাও আমরা বিরোধী আসনে, কোথাও আমরা দায়িত্ব পেয়েছি। পূর্ব মেদিনীপুরে ৮৪জন বিজেপির প্রার্থী প্রধান হয়েছেন। এত কিছুর পরেও ১৪টি জেলা পরিষদ আসনে বিজেপি জিতেছে।

তাঁর দাবি, ১০ লক্ষ করে ২০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ২জন প্রার্থীকে তুলেছে তৃণমূল। দল পরিবর্তন করতে গেলে, আগে পঞ্চায়েত সমিতি থেকে ইস্তফা দেওয়া উচিত। আমি পদত্যাগ করে দলবদল করেছি, এরকম হলে আপত্তি ছিল না।

শুভেন্দুবাবু এদিন স্পষ্ট করেন, ”টাকা দিয়ে দল ভাঙিয়েও কোনও লাভ করতে পারবে না তৃণমূল। বোমা বাঁধতে গিয়ে বিস্ফোরণে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। পঞ্চায়েতে ভোটে হার্মাদ তৃণমূলের জন্য বোমা মজুত করা হয়েছিল। কেন্দ্রীয় পুলিশকে বসিয়ে রেখে রাজ্য পুলিশ, সিভিক পুলিশ দিয়ে ভোটের নামে প্রহসন হয়েছে।”

খেজুরির সভা থেকে লোকসভায় সব বুথ ফাঁকা করার হুঙ্কার দেন শুভেন্দুবাবু। এদিন তিনি বলেন, ”আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী’ করার লড়াই চলবে।” পাশাপাশি, চোর ধরো, জেল ভরো স্লোগান তুলে তৃণমূলকে চ্যালেঞ্জ জানান শুভেন্দুবাবু।

বিরোধী দলনেতার সংযোজন, ”পুলিশ বিভিন্ন সময়ে একের পর এক মিথ্যে মামলায় হয়রানি করছে। বিজেপি কর্মীদের অসম লড়াইকে কৃতজ্ঞতা জানাই। কেজি দরে যাদের কেনা হচ্ছে, কোনও লাভ হবে না। বিক্রি হয়ে যাওয়া ২ বিজেপি কর্মীকে বাদ দিয়েই পঞ্চায়েত সমিতি গঠন হবে”, পদ্মফুলের প্রতীকে সব কর্মাধ্যক্ষ মনোনীত হবে, দাবি শুভেন্দু অধিকারীর।

প্রসঙ্গত, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সভা আটকানোর চেষ্টা করার অভিযোগে বেজায় ক্ষুব্ধ হন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “এটা কোনও পুলিশ স্টেট নয় বা জরুরি অবস্থা জারি হয়নি, যে এইভাবে ১৪৪ ধারা জারি করা হবে৷ বিরোধীদের আটকাতে এমন বাচ্চাদের মত যুদ্ধ করা যায় না ।” কাঁথির এসডিও”র জারি করা ১৪৪ ধারার নির্দেশ খারিজ করে রাজ্যকে তুলোধনা করল হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ২৬ অগস্ট নতুন করে শুভেন্দু অধিকারীর সভার অনুমতি দেন বিচারপতি ।