আগরতলা, ৪ আগস্ট : ডেঙ্গুর পর এবার রাজ্যে জাপানী এনক্যাফেলাইটিস রোগে আক্রান্ত এক। জানালেন স্বাস্থ্য সচিব দেবাশিস বসু। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেঙ্গুর প্রকোপে আতঙ্কে সাধারন জনগণ। তার মধ্যে নতুন এই ভাইরাসের খবরে রীতিমত আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জাপানী এনক্যাফেলাইটিসে আক্রান্ত ওই ব্যক্তি টিএমসি হাসপাতালে ভর্তি আছেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব।
রাজ্যে ১৫৭ জন ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার মহাকরনে মুখ্যমন্ত্রী ডা মানিক সাহার নেতৃত্বে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সচিব দেবাশিস বসু সহ অন্যান্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সহ পুর নিগমের আধিকারিকরা। এদিন স্বাস্থ্য সচিব জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। বিশেষ করে আরবান এবং গ্রামীণ এলাকাগুলিতে ফগিং এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও রবিবারকে ড্রাই ডে হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ওইদিন নিজ নিজ বাড়ীর এলাকায় সমস্ত জমা জলের উৎস যাতে পরিস্কার করা হয় সেই উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। এছাড়াও রাবার বাগানগুলির দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে স্বাস্থ্য দপ্তর দপ্তর। রাবার বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা যেন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত না হয় তার জন্য ইতিমধ্যেই ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। রাবার বাগানে রাবার সংগ্রহের জায়গায় অনেক সময় জল জমে থাকে। সেখানে মশার লার্ভা পাওয়া যায়। সেই জায়গাগুলিকে পরিস্কার করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা রাবার বাগানে কাজ করেন তারা যেন জামা কাপড় পড়ে বাগানে যায় সেই বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেবাশিস বসু। এদিকে যারা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন তাদের ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট যেন বিকেল ৪ টার মধ্যে দিয়ে দেওয়া যায় সেই বিষয়েও ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। পুর নিগম এলাকায় এখনো ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর না মিললেও স্বাস্থ্য দপ্তর প্রত্যেক এলাকায় ফগিং জারি রেখেছেন বলে এদিন বৈঠক থেকে জানা গেছে। এদিকে রাজ্যে ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুর খবর মিললেও দপ্তর এবারে নিশ্চিত কিছুই জানায় নি।
এদিকে রাজ্যের পাহাড়ি জনপদে বিশেষ করে ধলাই জেলার প্রত্যন্ত গ্রামে হু হু করে বাড়ছে ম্যালেরিয়া ও ডাইরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা। এদিকে সোনামুড়া মহকুমা স্বাস্থ্য আধিকারিক সুত্রে জানা গেছে ১৫ জন ভর্তি হয়েছে শুক্রবার। তার মধ্যে ৫ জনের শরীরে পাওয়া গেছে ডেঙ্গুর জীবাণু। জ্বর নিয়ে ভর্তি ৫৩ জন ওই হাসপাতালে। বিশালগড়ে নতুন করে শুক্রবার কোনো আক্রান্তের খবর নেই। মোহন পুর হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণে জ্বরের রোগী ভর্তি বলে হাসপাতাল সুত্রে খবর।