আগরতলা, ১৩ জুলাই (হি.স.) : ত্রিপুরায় জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) একটি ব্যাটালিয়ন ক্যাম্প স্থাপনের জন্য রাজ্য সরকার প্রস্তুত। ত্রিপুরায় স্থায়ীভাবে এনডিআরএফ-এর ব্যাটালিয়ন স্থাপনের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে আবেদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন মুখ্যসচেতক কল্যাণী সাহা রায়ের দৃষ্টি আর্কষণী নোটিশের জবাবে এই তথ্য দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা।
দৃষ্টি আর্কষণী নোটিশের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সাল থেকে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর প্রথম ব্যাটালিয়নের প্রায় ৫০ জন কর্মী নিয়ে গঠিত একটি দল সিপাহিজলার পূর্ব গকুলনগরে অবস্থিত কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে স্থায়ীভাবে অবস্থান করছে। এজন্য ত্রিপুরা সরকার এনডিআরএফকে দুটি পাকা ভবন এবং ২ একর জমি হস্তান্তর করেছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি এনডিআরএফ-এর গোকুলনারের অবস্থিত বাহিনীকে কোম্পানিতে রূপান্তরিত করার জন্য এবং পরিধি সম্প্রসারণের জন্য এনডিআরএফ রাজস্ব দফতরকে ৩০০ একর অতিরিক্ত জমি প্রদানের জন্য অনুরোধ করেছে। প্রস্তাবটি রাজস্ব দফতর বিবেচনা করে দেখছে।
তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় এনডিআরএফ-এর দল যে কোনও জেলায় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য খুবই সহায়ক। এখন পর্যন্ত রাজ্যের দুর্যোগ মোকাবিলায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এনডিআরএফ অংশ নিয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুনে বিধ্বংসী বন্যা এবং অক্টোবর ২০১২-এ সিতরাং ঘূর্ণিঝড়ের সময় অতিরিক্ত এনডিআরএফ টিম ত্রিপুরায় পাঠানো হয়েছিল। তাছাড়া, ২০১৮ সালে উনকোটি জেলায় এক ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। এর পর থেকে প্রতি বছর বর্ষাকালে একটি অতিরিক্ত এনডিআরএফ দল উনকোটি জেলায় মোতায়েন করা হয়।
এদিন তিনি আরও বলেন, ত্রিপুরায় এনডিআরএফ ব্যাটালিয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে রাজ্য সরকার রাজ্যে স্থায়ীভাবে এনডিআরএফ ব্যাটালিয়নের ক্যাম্প স্থাপন করার জন্য ২০২২ সালের ১৬ আগস্ট এনডিআরএফ-এর ডিজিকে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পাশাপাশি গত ১৩ জুন নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পৌরোহিত্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত একটি জাতীয় পর্যায়ের সভায় এ বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।