আগরতলা, ১৫ জুন (হি. স.) : দুই মিনিট সময় দিলেন না। ত্রিপুরার রাজ্যপালের উদ্দেশ্যে বিরক্তি প্রকাশ করে তীব্র সমালোচনায় মুখর হয়েছেন তিপরা মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর দেববর্মণ। ককবরক ভাষায় রোমান হরফের ব্যবহারের দাবিতে বুধবার তিপরা মথার যুব সংগঠনের মিছিলে পুলিশের জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়ার ঘটনায় এভাবেই রাজ্যপালকে সমালোচনায় বিঁধেছেন প্রদ্যোত। কারণ, তিনি তিপরা যুব সংগঠনের মেমোরেন্ডম গ্রহণে সুযোগ দেননি। প্রদ্যোত আজ পুলিশের ভূমিকা নিয়েও বিষোদগার করেছেন।
ককবরক ভাষায় রোমান হরফের ব্যবহারের দাবিতে ত্রিপুরায় বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করছেন। তাতে যোগ দিয়েছে তিপরা মথাও। বুধবার ককবরক ভাষায় রোমান হরফের ব্যবহারের দাবিতে রাজ্যপালের কাছে মেমোরেন্ডম তুলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিপরা মথার যুব সংগঠন তিপরা জনজাতি ছাত্র ফেডারেশন মিছিল করেছে। সার্কিট হাউজ এলাকায় পুলিশ ওই মিছিল আটকে দিয়েছিল। কারণ, রাজ্যপাল তাঁদের সাথে দেখা করার সময় দেননি। ফলে আন্দোলনকারি তিপরা মথার যুব কর্মীরা সেখানে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ভিআইপি রোডে দীর্ঘক্ষণ আন্দোলনের জেরে তীব্র যানজট দেখা দিয়েছিল। তাই, পুলিশ তাঁদের আন্দোলন প্রত্যাহার করে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল। পুলিশের অনুরোধ প্রত্যাখান করে ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিপরা মথার যুব কর্মীদের উপর জল কামান ও কাঁদানে গ্যাস ছেড়েছিল পুলিশ। সাথে তাঁদের নিয়ন্ত্রণে আনতে মৃদু লাঠিচার্জও করেছিল পুলিশ। তাতে, মহিলা সহ বেশ কয়েকজন তিপরা মথার যুব কর্মী আহত হন।
আহতদের উদ্ধার করে জি বি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই জিবি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন বিরোধী দলনেতা অনিমেষ দেববর্মা। তিনি তিপরা মথার যুব কর্মীদের উপর পুলিশী বর্বরতার অভিযোগ এনে তদন্তক্রমে দোষীর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ওই ঘটনায় মথা সুপ্রিমো প্রদ্যোত কিশোর ভীষণ রেগে গেছেন এবং ত্রিপুরার রাজ্যপালকে নিশানা করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। সাথে তিনি পুলিশের ভূমিকায় কড়া ভাষায় নিন্দা জানিয়েছেন।
তাঁর কথায়, তিপরা মথার যুব কর্মীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশের বর্বরতা অত্যন্ত নিন্দনীয়। মহিলা সহ কুড়ি জনের অধিক যুব কর্মী পুলিশের লাঠি চার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন। অধিকারের লড়াইয়ে পুলিশী নির্যাতন মেনে নেওয়া যায়না। তাঁর হুশিয়ারি, ত্রিপুরা সরকার ককবরক ভাষায় রোমান হরফের ব্যবহারে শীঘ্রই পদক্ষেপ না নেয়, তবে আন্দোলন আরও তেজি রূপ নেবে।
এদিন তিনি রাজ্যপালের বিরুদ্ধেও সমালোচনায় মুখর হয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, রাজ ভবনে থেকে রাজ্যের প্রধানের যুবদের অধিকারের প্রশ্নে দাবি শুনার জন্য দুই মিনিট সময় হল না। তিপরা মথার যুব কর্মীরা ককবরক ভাষায় রোমান হরফের ব্যবহারে মেমোরেন্ডম দেওয়ার জন্য রাজ্যপালের সাথে দেখা করতে চেয়েছিলেন। উল্টে তাঁদের লাঠির আঘাত সহ্য করতে হয়েছে। তাই, প্রদ্যোত এদিন রাজ্যপালের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর মতে, নিরপেক্ষতা বজায় রাখা রাজ্যপালের দায়িত্ব। অথচ, বারংবার আমাদের সাথে দেখা করার সুযোগ না দিয়ে তিনি ত্রিপুরার জনজাতি নাগরিকদের সাথে অন্যায় করছেন। তাই, ভারত সরকারের নিরপেক্ষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করার জন্য রাজ্যপালকে মনে করালেন প্রদ্যোত।