রোগী মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে


ক্যানিং, ১২ মে (হি. স.) : এক রোগী মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়াল ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের মাতৃমা (মা ও শিশু হাস্পাতালে)’য়। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিজনরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তৈরি হয় হাসপাতাল চত্বরে। ভাঙচুরের চেষ্টাও চলে হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতের এই ঘটনার খবর পেয়ে ক্যানিং থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, ক্যানিং থানার দুমকি এলাকার বাসিন্দা অনিমা বিশ্বাস বৃহস্পতিবার সকালে প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এদিন দুপুরে সিজারের মাধ্যমে একটি পুত্র সন্তানের জন্মও দেন তিনি। অপারেশানের পর তিনি সুস্থই ছিলেন বলে পরিবারের দাবি। স্বামী কার্তিক বিশ্বাসের সাথে কথাও বলেছেন। কিন্তু এদিন রাত্রি এগারোটা নাগাদ অনিমার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয় পরিবারকে। এরপরেই মৃতার পরিবার পরিজনরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। সুস্থ রোগী কিভাবে মারা গেল সেই প্রশ্ন তুলে তাঁরা হাসপাতাল চত্বরেই বিক্ষোভ দেখান। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তোলেন তাঁরা। উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের নিরাপত্তা রক্ষীদেরকে মারধর করে হাসপাতালের ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেন, ঘটনায় চরম উত্তেজনা ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। সামান্য ভাঙচুরও হয় হাসপাতাল চত্বরে। পরে ক্যানিং থানার পুলিশ এসে দীর্ঘক্ষণের চেষ্টায় পরিস্থিতি সামাল দেয়। মৃতদেহ শেষ পর্যন্ত রাতেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অন্যদিকে সদ্যজাত শিশুটির চিকিৎসা চলছে মাতৃমায়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ক্যানিং থানার পুলিশ।

কার্তিক বলেন, “ আমি দুপুরে স্ত্রীর সাথে কথা বলেছি। অপারেশানের পর ও ভালোই ছিল। চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন শিশুটির অবস্থা খারাপ রয়েছে। তবে তারও চিকিৎসা চলছে। অসুবিধা হলে কলকাতায় স্থানান্তরিত করে দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কিন্তু এরপরই রাতে বলেন স্ত্রী মারা গিয়েছে। ডাক্তারবাবুদের গাফিলতির জন্যই এই ঘটনা ঘটল।” যদিও এ বিষয়ে হাসপাতালের তরফে কোন প্রতিক্রিয়া মেলে নি। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত সুপার সুরেশ সর্দারকে ফোন করা হলেও তিনি উত্তর দেন নি। তবে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল বলেন, “ঘটনার কথা শুনেছি, এ বিষয়ে সুপারকে নিরপেক্ষ তদন্ত করে রিপোর্ট দিতে বলেছি। গোটা ঘটনা যথাযথ ভাবে ক্ষতিয়ে দেখা হবে। কারণ কোন মৃত্যুই কাম্য নয়, এই ধরনের ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে।”