মিড ডে মিল রিপোর্ট একপেশে, প্রতিহিংসামূলক, দাবী তৃণমূলের

কলকাতা ১২ এপ্রিল (হি. স.) : স্কুলের মিড ডে মিলে ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ। বাংলার বিরুদ্ধে সেই নিয়ে রিপোর্ট জমা পড়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের ঘরে। কিন্তু এই অভিযোগ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে অভিযোগ করছে রাজ্য সরকার।

রাজ্যের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয় এই ধরনের রিপোর্ট তৈরিতে কেন্দ্র এবং রাজ্য, দুই পক্ষের প্রতিনিধিই যুক্ত থাকেন। কিন্তু বাংলার মিড ডে মিল নিয়ে একপেশে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের প্রতিনিধিকে যুক্তই করা হয়নি রিপোর্ট তৈরিতে।

বুধবার কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রকের নিযুক্ত রিভিও প্যানেলের রিপোর্টের বিষয়টি সামনে আসে। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২২ সালে মাত্র ছ’মাসের মধ্যে মিড ডে মিল নিয়ে অন্তত ১০০ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ। বলা হয়েছে, গত বছর এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে এই বিপুল টাকার দুর্নীতি হয়েছে। হিসেব চাইলে ১৬ কোটি অতিরিক্ত মিড ডে মিল দেখানো হয়।শুধু তাই নয়, নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে ৭০ শতাংশ কম মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ওই রিপোর্ট নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করতে নেমে পড়েছে বিজেপি। সেই আবহে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জোড়াফুল শিবির। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর মতে, মিড ডে মিল নিয়ে দ্বিচারিতা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের যৌথ পর্যালোচনা প্রকল্পে রাজ্য সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি, কুকড মিড ডে মিল-এর অধিকর্তার সই ছাড়াই রিপোর্টটি জমা পড়েছে। রিপোর্টটি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিকে দেখানো পর্যন্ত হয়নি বলে দাবি ব্রাত্যর।

রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, “এটা কেন্দ্রের দ্বিচারী মনোভাব।” রাজ্যের প্রতিনিধিকে না জানিয়েই এই রিপোর্ট কেন্দ্রের কাছে জমা করা হয়েছে বলে মন্তব্য ব্রাত্য বসুর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “জয়েন্ট রিভিউ মিশন রাজ্য সরকারের একমাত্র প্রতিনিধি, কুকড মিড ডে মিলের সই ছাড়াই এই রিপোর্টটি জমা দিয়েছে। সেই রিপোর্ট যদি রাজ্য সরকারের প্রতিনিধিকে দেখানো পর্যন্ত না হয়, তাহলে জয়েন্ট রিভিউ মিশিন অর্থাৎ যৌথ পর্যালোচনা কমিটির ‘যৌথ’তা কোথায় রইল?” শিক্ষামন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, রাজ্য সরকারের বক্তব্য এই রিপোর্টে যথাযথভাবে স্থান পায়নি।