তীব্র গতিতে এগিয়ে চলেছে ডিমাপুর-কোহিমা নতুন রেল লাইন প্রকল্পের কাজ

গুয়াহাটি, ২৮ মার্চ (হি.স.) : একাধিক নতুন রেল লাইন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলির রূপান্তরে ভারতীয় রেলওয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সবগুলি রাজ্যের রাজধানীর সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য ক্যাপিটাল কানেকটিভিটি প্রজেক্ট-এর অধীনে নতুন রেল লাইন নির্মাণের কাজ চলছে। এগুলির মধ্যে একটি নাগাল্যান্ডের ডিমাপুর থেকে কোহিমা পর্যন্ত নতুন ব্রডগজ রেল লাইন সংস্থাপন। এই প্রকল্পের কাজ তীব্রগতিতে এগিয়ে চলেছে। নতুন রেল লাইনটি নাগাল্যান্ডের রাজধানী শহর কোহিমাকে দেশের ব্রডগজ রেলওয়ে ম্যাপে অন্তর্ভুক্ত করবে।

৮২.৫০ কিমি দৈর্ঘ্যের ডিমাপুর-কোহিমা নতুন রেল লাইন প্রকল্প অসমের ধনশিরি স্টেশন থেকে শুরু হয়ে কোহিমা সংলগ্ন জুবজা পর্যন্ত গেছে। এর কাজ উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের নির্মাণ সংস্থার দ্বারা পরিচালনা করা হচ্ছে এবং এর আনুমানিক ব্যয় ৬,৬৬৩ কোটি টাকা। মোট ৮২.৫ কিমি (২.৭৫ কিমি অসমে এবং ৭৯.৭৫ কিমি নাগাল্যান্ডে) দৈর্ঘ্যের এই প্রকল্পে আটটি নতুন স্টেশন রয়েছে। সেগুলি যথাক্রমে ধনশিরি, ধনসিরিপার, শোখুভি, মোলভম, ফেরিমা, পিফেমা, মেঙ্গুজুমা ও জুবজা। এই প্রকল্পে ২৪টি মেজর ব্রিজ, ১৫৬টি মাইনোর ব্রিজ, ছয়টি রোড ওভার ব্রিজ, ১৫টি রোড আন্ডার ব্রিজ ও ৩১ কিমি দৈর্ঘ্যের ২১টি সুড়ঙ্গ। ফেরিমা থেকে পিফেমা পর্যন্ত ৭ নম্বর সুড়ঙ্গ এই প্রকল্পের সবচেয়ে লম্বা। এর দৈর্ঘ্য ৬,৫২০ মিটার।

প্রকল্পটি সহজে চালু করার জন্য তিন পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের ধনশিরি থেকে শোখুভি পর্যন্ত ১৬.৫ কিমি ইতিমধ্যে ২০২১-এর অক্টোবর মাসে সম্পূর্ণ হয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে আন্তঃঞ্চল রেল সংযোগ বৃদ্ধি করতে শোখুভি থেকে অরুণাচল প্রদেশের নাহরলগুন এবং মেঘালয়ের মেন্দিপাথার পর্যন্ত প্যাসেঞ্জার ট্রেন পরিষেবা সম্প্রতি চালু করা হয়েছে। শোখুভি থেকে ফেরিমা পর্যন্ত পরবর্তী পর্যায়ের কাজ খুব শীঘ্রই সম্পূর্ণ হবে এবং জুবজা পর্যন্ত সম্পূর্ণ প্রকল্পটি ২০২৬-এর মধ্যে সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য ধার্য করেছে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে।

এই নতুন রেল সংযোগের ফলে দেশের অন্যান্য প্রান্ত থেকে খুব সস্তায় খাদ্যশস্য ও অন্যান্য পরিকাঠামোমূলক সামগ্রী পরিবহণে সহায়ক হবে এবং স্থানীয় জনসাধারণ লাভান্বিত হবেন। সংশ্লিষ্ট রাজ্যের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে কৰ্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *