আগরতলা, ২০ মার্চ (হি. স.) : ত্রিপুরায় বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করেছে বিজেপি। শুধু তাই নয়, তাঁদের দল থেকে বের করার উদ্যোগও নেবে পদ্ম শিবির। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনে কিছু বিশ্বাসঘাতকদের জন্যই বিজেপি বেশ কিছু আসন হাতছাড়া করেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক বিজেপি নেতা এই খবর দিয়েছেন।
তাঁর কথায়, বিধানসভা নির্বাচনে ত্রিপুরায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। এখন থেকেই আগামী বছরে লোকসভা নির্বাচনে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। ফলে, ত্রিপুরায় বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাঁর দাবি, সংগঠনকে নতুন ভাবে ঢেলে সাজানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারণ, ত্রিপুরায় বিজেপিকে আরও শক্তিশালি করা রাজ্যবাসীর স্বার্থে সময়ের চাহিদা বলে মনে করছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
তাঁর বক্তব্য, ত্রিপুরায় বিশ্বাসঘাতকদের খুঁজে বের করতে বিজেপি বিশেষ অভিযান শুরু করে করেছে। তাঁদের দল থেকে বহিষ্কারের কঠিন পথেও হাটতে চলেছে। কারণ, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে বিশ্বাসঘাতকদের অসীম ভূমিকার বহু প্রমাণ মিলেছে। তাঁর দাবি, ওই অভিযানের অন্তর্গত প্রথমে বিশ্বাসঘাতকদের প্রভাবশালী পদ থেকে সরানো হবে। তারপর তাঁদের দল থেকে বের করে দেওয়ার উদ্যোগ নেবে বিজেপি। এক্ষেত্রে হয়তো প্রথম ধাপে তাঁদের পদত্যাগ এবং দল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে। তাঁর সাফ কথা, দলের প্রতি আনুগত্য নেই এমন একজনকেও প্রভাবশালী পদে রাখবে না বিজেপি।
তিনি ক্ষোভের সুরে বলেন, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বহু প্রভাবশালী নেতা দলের আস্থা ভেঙেছেন এবং গোপনে বিরোধী কংগ্রেস ও সিপিএমকে মদত দিয়েছেন। ফলাফল ঘোষণার পর তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিজেপি। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে ছড়িলাম এবং বনমালীপুর মন্ডলের সভাপতি পদত্যাগ করেছেন। আরও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি একই অভিযোগে বিজেপির নিশানায় রয়েছেন।
তাঁর কথায়, দল ইতিমধ্যে তাঁদের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা দিয়েছে। সাথে তিনি যোগ করেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে বিজেপি ত্রিপুরায় নতুন এবং উদ্যমী কার্যকর্তাদের উপরের সারিতে তুলে আনবে। এক্ষেত্রে বড়সড় সাংগঠনিক রদবদল অপেক্ষা করছে, ইঙ্গিত দেন তিনি। তাঁর মতে, ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর বড় সংখ্যায় বিভিন্ন দল ছেড়ে মানুষ বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই দলের গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন। কিন্তু, বাস্তবে তাঁরা বিজেপিকে কতটা শক্তিশালী করেছেন এখন সেই মূল্যায়নের সময় এসেছে। দলের প্রকৃত অনুগতদের খুঁজে বের করার নীলনক্সা তৈরি হয়ে গেছে। এপ্রিল থেকেই সাফাই অভিযান শুরু হবে, হুশিয়ারি দিয়ে বলেন তিনি।

