জাতীয় স্তরে বিজেপি-কে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে বিশালগড়ের নেহালচন্দ্র নগরে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের নেতারা পরিকল্পনামাফিক ঘটনা মঞ্চস্থ করেছে : নবেন্দু

আগরতলা, ১১ মার্চ (হি. স.) : জাতীয় স্তরে বিজেপি-কে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে বিশালগড়ের নেহালচন্দ্র নগরে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের নেতারা পরিকল্পনামাফিক ঘটনা মঞ্চস্থ করেছে। গতকাল সিপিএম-কংগ্রেসের সংসদীয় দলের উপর হামলার অভিযোগের বিজেপি প্রদেশ মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য এভাবেই খন্ডন করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। 

এদিন তিনি বলেন, সিপাহিজলা জেলায় বিশালগড়ের নেহালচন্দ্র নগর সিপিএম-কংগ্রেসের কেন্দ্র ও রাজ্য প্রতিনিধি দলের উপর হামলার অভিযোগের বিষয়টিতে বিজেপি রাজ্য নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই স্থানীয় পদাধিকারি ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য নেতৃত্ব বিস্তর চর্চা করেছেন। দল মনে করে এই ঘটনার পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে। ত্রিপুরা এবং বিজেপিকে জাতীয় স্তরে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যে জনবিচ্ছিন্ন কায়েমী স্বার্থান্বেষী বামগ্রেস নেতারা পরিকল্পনা মাফিক ঘটনাটি মঞ্চস্থ করার চেষ্টা করেছে, জোর গলায় দাবি করেন তিনি।

তাঁর কথায়, বাম কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার অব্যবহিত পরেই ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডাঃ) মানিক সাহা দিল্লী থেকে ফোনে পুলিশ মহানির্দেশকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়েছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন। সে মোতাবেক পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। প্রদেশ সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং সাধারণ প্রশাসনের আধিকারিকদের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নিয়েছেন, নবেন্দু জানিয়েছেন।

তাঁর দাবি, বিজেপি প্রদেশ নেতৃত্ব খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছেন, বামগ্রেসের সাংসদ ও বিধায়করা সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাবার আগে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগও করেননি। ফলে, আচমকা এই সফরের পেছনে মহৎ উদ্দেশ্য ছিল না তা স্পষ্ট হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পুলিশের কাছে আগাম বার্তা না থাকা সত্বেও ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা রক্ষীরা ছিলেন। প্রতিনিধি দলটি সেখানে গিয়ে স্থানীয় জনগণকে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাসের কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। এরই প্রতিবাদ হয়েছে সেখানে। কিন্তু কোথাও কোনো আক্রমণের ঘটনা ঘটেনি। 

সাথে তিনি যোগ করেন, উপস্থিত সুরক্ষা কর্মীরাও যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন এবং প্রতিনিধি দলটিকে ওই এলাকা থেকে নিয়ে আসেন। তাঁর বক্তব্য, মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা যায় না। সেখানেও মানুষ গণতান্ত্রিক উপায়েই বামগ্রেস নেতাদের অপকৌশলের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন মাত্র। অসত্য অভিযোগ জনগণ মেনে নেননি এবং এলাকায় রাজনৈতিক সন্ত্রাসের কথা তারা অস্বীকার করেছেন। তা বামগ্রেস নেতাদের সহ্য হয়নি, কটাক্ষ করে বলেন তিনি।

নবেন্দুর কথায়, ত্রিপুরায় নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন সময়ে বামগ্রেস নেতৃবৃন্দ বহুবার প্ররোচনামূলক বক্তব্য রেখেছেন। ক্ষমতায় এলে বিজেপি কার্যকর্তাদের প্রাণনাশের হুমকিও বহুবার দিয়েছেন। ভোটগ্রহণের অব্যবহিত পর থেকে এই জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের ইঙ্গিতে বহু অনভিপ্রেত ঘটনাও ঘটেছে। তবুও বিজেপি প্রদেশ নেতৃত্বের নির্দেশিকা মেনে দলীয় কার্যকর্তারা সংযম পালন করে চলেছেন, কোন প্ররোচনার ফাঁদে পা দেননি, বলেন তিনি।

তাঁর দাবি, ২০১৮ সালে নির্বাচনের পর এই দ্বিতীয় বিধানসভা নির্বাচন, যেখানে কোন শাসক দলের প্ররোচনায় কোন নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস সংগঠিত হয়নি। এমনকি কোন প্রানহানির ঘটনাও ঘটেনি। অথচ অতীতে যে কোন নির্বাচনের আগে এবং পরে বাম সন্ত্রাস ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। ত্রিপুরাকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে উত্তরণের চেষ্টা চলছে। যদিও বিরোধীদের অপচেষ্টা বহাল রয়েছে, বিদ্রুপের সুরে বলেন তিনি।

নবেন্দুর মতে, বিরোধী দলের নেতারা হয়তো নির্বাচনী ফলাফল থেকে এখনো কোন শিক্ষা নেননি। সরকারের বিরোধীতা করতে গিয়ে অসত্য অভিযোগ তোলে ত্রিপুরাকে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা থেকে দূরে থাকা উচিত। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে জনগণ রায় দিয়েছেন। জনগণের রায় মাথা পেতে নেওয়া উচিত। 

তাঁর সাফ কথা, ত্রিপুরাকে বদনাম করার মাধ্যমে জনগণের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করলে রাজ্যবাসী কাউকে ক্ষমা করবেন না। অসত্য তথ্য পরিবেশন এবং ত্রিপুরাবাসীর মানহানির এই চেষ্টার বিজেপি তীব্র নিন্দা করছে। ত্রিপুরার বিরুদ্ধে যে কোনো ধরণের চক্রান্ত রুখতে পুলিশ ও সাধারণ প্রশাসনের পাশাপাশি জনগণেরও বড় ভূমিকা রয়েছে বলে বিজেপি মনে করে।