আগরতলা, ২৪ ডিসেম্বর (হি. স.) : ইন্দো-বাংলা সম্পর্ক আরও মজবুত করার প্রশ্নে একাধিক প্রকল্পের কাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। অধিকাংশ প্রকল্পেই ত্রিপুরা দারুণভাবে উপকৃত হবে। কিন্তু, ওই সমস্ত প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে অনেকটা কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে। তাই, সংসদে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব।
আজ আগরতলায় সরকারি আবাসনে সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রত্যেক রাষ্ট্রের কাজের নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে। তবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার ইন্দো-বাংলা অসম্পূর্ণ কাজগুলি দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানাবে। তার সুফল অবশ্যই ত্রিপুরা কুড়াবে।
এদিন তিনি বলেন, করোনার প্রকোপের ফলে বর্ডার হাট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর মেঘালয়ে সীমান্ত হাট চালু হলেও ত্রিপুরায় এখনো শুরু করা যায়নি। তাঁর কথায়, ইন্দো-বাংলা সীমান্ত হাটে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা দারুণভাবে উপকৃত হন। বাংলাদেশী পণ্যের তুলনায় ভারতীয় পণ্যের বিক্রি অধিক হয়। কিন্তু, ত্রিপুরায় সীমান্ত হাট চালু করার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে সবুজ সংকেত এখনো মিলেনি।
সাথে তিনি যোগ করেন, গত মার্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভার্চুয়ালি সাব্রুমে মৈত্রী সেতুর উদ্বোধন করেছিলেন। কিন্তু, বাংলাদেশের অংশে এখনো ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট নির্মাণ না হওয়ায় ওই সেতু ব্যাবহার করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার দ্রুত আইসিপি নির্মাণ করলে ওই সেতু ব্যবহারে বাণিজ্যিক দিক দিয়ে ত্রিপুরা উপকৃত হবে। এদিকে, গোমতী নদীতে নাব্যতা বৃদ্ধির প্রশ্নে ড্রেজিং-র বিষয় নিয়েও বিপ্লব কুমার দেব চিন্তা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, নদীপথে পণ্যের আমদানিতে ত্রিপুরার ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন, সেই লক্ষ্যে দাউদকান্দি থেকে সোনামুড়া পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পণ্য আমদানি করা হয়েছিল। এরপরই গোমতী নদীতে ড্রেজিং-এর জন্য ভারত সরকার প্রস্তাব দিয়েছিল এবং উদ্যোগ নিতে চেয়েছিল। কিন্তু, বাংলাদেশ সরকার নিজেরাই ওই ড্রেজিং-র কাজ করবেন বলে ভারত সরকারকে আশ্বাস দিয়েও এখনো কোন উদ্যোগ নেয়নি।
বিপ্লব কুমার দেবের দাবি, সংসদে সমস্ত বিষয় তুলে ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংসদে ত্রিপুরার বিষয় তুলে ধরেছি। তাঁর আশা, ভারত সরকার ওই সমস্ত বিষয় বাংলাদেশ সরকারের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করবে। তিনি বলেন, প্রত্যেক দেশের কাজ করার নিজস্ব পদ্ধতি রয়েছে। দুই দেশের কাজের পদ্ধতি নিয়ে কিছু বলা এখানে সম্ভব নয়। তবে, ভারত সরকার ওই সমস্ত কাজ দ্রুত সমাপ্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ জানাবে এবং তাতে ত্রিপুরা সুফল কুড়াবে, দৃঢ় প্রত্যয়ের সুরে বলেন তিনি।

