আগরতলা, ২৪ ডিসেম্বর (হি. স.) : খুব শীঘ্রই ত্রিপুরায় রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে চলেছে। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যসভার সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, তেইশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কর্মক্ষমতা আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে নির্ধারিত হবে।
এদিকে তিনি আজ তিপরা মথার সাথে বিজেপির গাঁট বাধার বিষয়টিও সরাসরি উড়িয়ে দেননি। তাঁর মতে, বিজেপি-কে বাদ দিয়ে একা তিপরা মথার পক্ষে কিছুই করা সম্ভব নয়। কারণ, কংগ্রেস ও সিপিএম নিজেরাই আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে। ফলে, বিজেপির উপরই জনজাতিরা ভরসা রাখবেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালে ত্রিপুরার মানুষ মুক্তির জন্য লড়াই করেছেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে ভবিষ্যতের জন্য লড়াই করতে হবে। তাঁর দাবি, ত্রিপুরার উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্যবাসীর বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, ভবিষ্যতের জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করে বিজেপি কাজ চালিয়েছে।
তাঁর কথায়, কাজ করার ক্ষেত্রে ভুল-ত্রুটি, ভাল-খারাপ থাকবেই। কার্যকর্তাদের মধ্যে মনোমালিন্য হবেই। ত্রিপুরার ভবিষ্যত সুরক্ষিত করার জন্য বিজেপি-কে আবারও সুযোগ দিতে হবে। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে ছাড়া ত্রিপুরার উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি জানান, নির্বাচনের সংগ্রামে আগামীকাল থেকেই ময়দানে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনের আগে মানুষ যেভাবে তাঁকে দেখেছেন কাল থেকে আবারও সেই পুরনো রূপে তাঁকে দেখবেন। তাঁর পূর্ণ বিশ্বাস, ত্রিপুরায় পুণরায় বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, খুব শীঘ্রই ত্রিপুরায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ দেখা যাবে। আগামী ৭ থেকে ৮ দিনের মধ্যে তেইশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির কর্মক্ষমতা নির্ধারিত হবে। কারণ, তিপরা মথার জোটের বিষয়টি তিনি সরাসরি উড়িয়ে দেননি।
তাঁর কথায়, তিপরা মথা এডিসি দখল করেছে ঠিকই। কিন্ত, তিপরা মথাকে বিজেপির কাছে আসতেই হবে। তাঁর দাবি, জনজাতিদের জন্য কাজ করছেন একমাত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই, বিজেপির কাছে যাওয়া ছাড়া তিপরা মথার অন্য কোন রাস্তা খোলা নেই।
তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি একাই ৬০টি আসনে জয়ী হবে। তবে, পরিস্থিতি বদলালে বিজেপি ৪০ থেকে ৪৫টি আসনে নিশ্চিত জয়ী হবে। সেক্ষেত্রে ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনের তুলনায় আসন বাড়বে বিজেপির।
বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ঝেড়ে কাসেননি বিপ্লব কুমার দেব। তাঁর কথায়, দলের একজন সাধারণ কার্যকর্তা হিসেবে পরিচিতি আমার। দলের প্রার্থী বাছাইয়ের সমস্ত অধিকার সংসদীয় কমিটির রয়েছে। সেক্ষেত্রে এ-বিষয়ে দলের হাই কমান্ড সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত নেবে।তাঁর বক্তব্য, দলের নির্দেশে ২০১৮ বিধানসভা নির্বাচনে বনমালিপুর কেন্দ্রে প্রার্থী হয়েছি। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর দলের নির্দেশেই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছি। এখন দলের নির্দেশেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বর্তমানে সাংসদের দায়িত্ব পালন করছি।

