শিলচর (কাছাড়, অসম), ২২ ডিসেম্বর (হি.স.) : কাছাড় জেলার লক্ষ্মীপুর মহকুমা সদর থানায় আগ্নেয়াস্ত্র সহ আত্মসমৰ্পণ করে সমাজের মূল স্রোতে ফিরেছে মিজোরাম-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন ‘মার পিপলস কনভেনশন-ডেমোক্র্যসি’ (এইচপিসি-ডি)-র নয় সশস্ত্র ক্যাডার। জঙ্গিরা দুটি একে ৪৭ সিরিজের রাইফেল. পাঁচটি রাইফেল, চারটি পিস্তল এবং প্রায় ৯০ রাউন্ড সক্রিয় গোলাবারুদ অসম পুলিশকে হস্তান্তর করেছে।
আজ কাছাড়ের পুলিশ সুপার নোমাল মাহাতো এই খবর দিয়ে জানান, বুধবার লক্ষ্মীপুর থানায় ‘মার পিপলস কনভেনশন-ডেমোক্র্যসি’-র নয় (৯) ক্যাডার অস্ত্রশস্ত্র সহ আত্মসমর্পণ করেছে। তিনি জানান, এইচপিসি (ডি)-র এই নয় জঙ্গি বেশ কিছুদিন ধরে জনৈক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরতে আত্মসমৰ্পণের জন্য পুলিশের কাছে বাৰ্তা পাঠিয়েছিল।
তিনি জানান, আত্মসমর্পণকারী নয় জঙ্গি ক্যাডার যথাক্রমে স্বঘোষিত বিদেশ বিষয়ক সম্পাদক জেমস এমও, সিএনসি এল খুমা মার, সাধারণ সম্পাদক পি সাঙ্গা মার, কমান্ডিং অফিসার এলিজার জ্যোটো, ডিরেক্টর পাবলিক রিলেশনস মোরসাং খুমা মার, আইনসভা-সচিব এল বানা মার, প্রতিরক্ষা সচিব এল মার, ডেপুটি সিএনসি রামজাও এবং অন্য এক।
জঙ্গি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অন্যান্য কর্মকর্তা যথাক্রমে দক্ষিণ অসম রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কনজ্যোতি শইকিয়া, কাছাড়ের পুলিশ সুরার নোমল মাহাতো, লক্ষ্মীপুর থানার ওসি প্রমুখ।
এদিকে জঙ্গি সংগঠনটির জনৈক প্ৰাক্তন শীৰ্ষ ক্যাডার জানান, আগামী ১৫ জানুয়ারি একজন জ্যেষ্ঠ ক্যাডার সহ প্রায় ১০৪ জন উগ্রপন্থী আত্মসমর্পণ করবেন।
প্রসঙ্গত, গত ১৯৮৬ সালে মিজোরামের উত্তর ও উত্তর-পূর্বে স্বশাসিত সরকারের দাবিতে একটি রাজনৈতিক দল হিসাবে এইচপিসি (ডি) ভূমিষ্ঠ হয়েছিল। কিন্তু ওই সালেই মিজো শান্তি চুক্তির সঙ্গে মতবিরোধের পর এইচপিসি স্বায়ত্ত্বশাসনের জন্য সশস্ত্র সংগ্রাম শুরু করে সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছিল।
এদিকে গত ১২ ডিসেম্বর দক্ষিণ অসমের হাইলাকান্দি জেলায় দুটি নিষিদ্ধ সংগঠনের ১,১৭৯ জন ব্রু জঙ্গি আত্মসমর্পণ করেছে। জঙ্গিরা ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক লিবারেশন ফ্রন্ট অব বরাক ভ্যালি (ইউডিএলএফ-বিভি) এবং ব্রু রেভল্যুশনারি আর্মি অব ইউনিয়ন (বিআরএইউ)-এর সদস্য ছিল। তারা ১৮টি একে সিরিজের রাইফেল, এম ১৬ সিরিজের রাইফেল সহ ৩৫০-এর বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৪০০ রাউন্ড সক্রিয় গুলি সহ অসম বিধানসভার অধ্যক্ষ বিশ্বজিৎ দৈমারি, রাজ্যের পরিষদীয় মন্ত্রী পীযূষ হাজারিকা, রাজ্য পুলিশের এডিজিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) হীরেন নাথ, দক্ষিণ অসম রেঞ্জের ডিআইজি কঙ্কন শইকিয়া, হাইলাকান্দি জেলার ডিএসপি নির্মল ঘোষ, কাটলিছড়ার ওসি রাতুল দাস সহ বেশ কয়েকজন পুলিশের পদস্থ আধিকারিকদের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল।

