আগরতলা, ১৭ ডিসেম্বর (হি. স.) : প্রধানমন্ত্রীর ত্রিপুরা সফরে জনসমুদ্রে ভাসবে রাজধানী আগরতলা। লোক সমাগমে এমনটাই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শনিবার সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর দিয়েছেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী। সাথে তিনি যোগ করেন, আবাস যোজনায় গৃহ প্রবেশ, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং আগরতলা ডেন্টাল কলেজের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও একগুচ্ছ প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধন করবেন তিনি।
তিনি জানান, আগামীকাল দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে পদার্পণ করবেন। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে রাজ্যপাল সত্যদেও নারাইন আর্য, মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা, উপ-মুখ্যমন্ত্রী যীষ্ণু দেববর্মা, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী, সাংসদ, রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক, মুখ্যসচিব,পশ্চিম ত্রিপুরা জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার উপস্থিত থাকবেন। বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় সরাসরি স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে পৌঁছবে।
তিনি বলেন, স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-গ্রামীণ প্রকল্পের ১ লক্ষ ৫১ হাজার ১৯টি আবাসের এবং প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-শহর প্রকল্পের ৫৪ হাজার ৫২৬টি আবাসের গৃহ প্রবেশ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়ালি অংশগ্রহণ করবেন। এরপর তিনি হোটেল ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট এবং আগরতলা ডেন্টাল কলেজের ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করবেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী স্বামী বিবেকানন্দ ময়দান থেকে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার অন্তর্গত ৩২টি সড়কের (দৈর্ঘ্য ২৩২ কিলোমিটার) এবং ১১২টি রোড প্রজেক্টের (দের্ঘ্য ৫৪২ কিলোমিটার) ভার্চুয়ালি শিলান্যাস করবেন, জানান তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী।
তাঁর দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর ত্রিপুরায় আগমনকে কেন্দ্র করে সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সারা ত্রিপুরা থেকে প্রায় ৭২ হাজার লোক আসবেন বলে তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন।
তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় সারা ত্রিপুরা থেকে লোক নিয়ে আসার জন্য ৬০০টি বাস এবং ২৫০০টি ছোট বড় গাড়ির ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও উত্তর ত্রিপুরা, ধলাই ও ঊনকোটি জেলার লোকেদের জন্য ২টি এবং দক্ষিণ ত্রিপুরা জেলার লোকেদের জন্য ২টি বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সাথে তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রিপুরা সফরকে সফল রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে মুখ্যমন্ত্রী মন্ত্রিসভার অন্যান্য সদস্য সহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। তাছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে নিজে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন কাজের তদারকি করেছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় লোক সমাগমে ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিজেপির প্রদেশ শীর্ষ নেতৃত্বদের মধ্যে দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। লোক সমাগমের লক্ষ্যমাত্রায় পৌছার জন্য ৬০টি বিধানসভার কেন্দ্রের জন্য জেলা ভিত্তিক দায়িত্ব ভাগ করা হয়েছে। সদর শহরের অধীনে বিধায়ক সুরজিত দত্ত, মন্ত্রী সুশান্ত চৌধুরী, পুর নিগমের মেয়র দীপক মজুমদার এবং অসীম ভট্টাচার্য লোক সমাগমে দায়িত্বে রয়েছেন। সদর গ্রামীণের অধীনে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মন্ত্রী রতন লাল নাথ, সজল আচার্য এবং অসিত রায়কে। সিপাহিজলা জেলা দক্ষিণে মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল, মৌসুমী দাস এবং গৌরাঙ্গ ভৌমিকের কাঁধে দায়িত্ব পড়েছে। এদিকে, সিপাহিজলা জেলা উত্তরে বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক কিশোর বর্মণ, জসিম উদ্দিন এবং দেবব্রত ভট্টাচার্য দায়িত্বে রয়েছেন।
গোমতী জেলায় মন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়, রতন ঘোষ ও অভিষেক দেব রায়, দক্ষিণ জেলায় বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদিকা পাপিয়া দত্ত, বিধায়ক শংকর রায় ও বিধায়ক প্রমোদ রিয়াং, খোয়াই জেলায় বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত, সরকারি মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় ও বিধায়ক পিনাকী দাস চৌধুরী, উত্তর ত্রিপুরা জেলায় উপাধ্যক্ষ বিশ্ববন্ধু সেন, তপন ভট্টাচার্য ও বিধায়িকা মালিনা দেবনাথ, ঊনকোটি জেলায় মন্ত্রী ভগবান দাস, বিজেপি প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক টিংকু রায় ও বিধায়ক সুধাংশু দাস এবং ধলাই জেলায় মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেবরায়, বিধায়িকা স্বপ্না দাস পাল, তাপস মজুমদার ও ভূমিকা নন্দা রিয়াং-র কাঁধে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে।প্রধানমন্ত্রীর জনসভায় মোট ৭১ হাজার ৭০০ জনের সমাগমের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। তাঁদের জনসভায় আনতে ৬৪ লক্ষ ১০ হাজার টাকা ব্যয় হবে অনুমান করা হচ্ছে, এমনটাই দাবি সূত্রের।

