ঘেরাও উপাচার্যছাত্র বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্বভারতী

শান্তিনিকেতন, ২৩ নভেম্বর (হি. স.) :উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল বিশ্বভারতী । ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ে ধুন্ধুমার, রক্তাক্ত ছাত্র-নিরাপত্তারক্ষী। শিক্ষার পরিবেশ ফেরানো ও উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উপাচার্যের অফিস ঘেরাও ছাত্রছাত্রীদের একাংশের।উপাচার্যের দাবি তাকে হেনস্থা করা হয়েছে। নিরাপত্তা অভাব বোধ করছি ।

বুধবার কয়েকটি দাবি নিয়ে উপাচার্যের কাছে যাচ্ছিল পড়ুয়াদের একাংশ । উপাচার্যের ঘরের সামনে দোতলার সিঁড়িতে উঠতেই পথ আটকায় নিরাপত্তা রক্ষীরা। তাঁদের সঙ্গে পড়ুয়াদের ধস্তাধস্তি বাধে। এরপরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর। নিরাপত্তা রক্ষীদের কাছে উপাচার্যের সাথে কথা বলতে যান পড়ুয়ারা। কিন্তু, সেই সময় উপাচার্য চিৎকার করে খারাপ ব্যবহার করেন বলে দাবি ছাত্রছাত্রীদের। এরপরেই ছাত্র ছাত্রীরা উপাচার্য ঘরের সামনে বসে পড়ে। গেট আটকে দেয়। বিশ্বভারতীর কর্মীরা অফিসে ঢোকার চেষ্টা করলে বাধা দেয় ছাত্রছাত্রীদের। আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের ঘরের কাছে পৌঁছতে গেলেও বাঁধা দেয নিরাপত্তারক্ষীরা। ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে নিরাপত্তা রক্ষীদের হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। ধস্তাধস্তিতে আহত ১ নিরাপত্তারক্ষী ও ১ ছাত্র।

ছাত্রছাত্রীদের অভিযোগ, উপাচার্য তাঁদের কোনও কথা শোনেন না। উল্টে আজ পডুযারা দেখা করতে গেলে উপাচার্য, নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন পড়ুয়াদের নিশানা করে গুলি চালাতে। এরপরেই উতপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ধস্তাধস্তি বেধে যায়। এর পর বিদ্যুতের ইস্তফার দাবিতে ঘেরাও শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাদের দাবি উপাচার্য পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘেরাও চলবে বলে জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

ছাত্রছাত্রীদের মতে, পূর্বের আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের ভর্তি না নেওয়া, গবেষণারত পড়ুয়াদের পাঠে বাধা দেওয়া, এমনকি, আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগ তুলে ঘেরাও করা হয় উপাচার্যকে৷ এদিন বিকাল থেকে বিশ্বভারতীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিজ দপ্তরেই ঘেরাও করা হয় উপাচার্যকে৷ শুভ নাথ নামে এক আন্দোলনকারীর দাবি, ‘‘আমরা যখন আমাদের দাবিগুলি জানাই তখন উনি নিরাপত্তারক্ষীদের দিয়ে ছাত্রদের মারধর করান। তারপর আমরা কথা বলতে চাইলে, উনি নিরাপত্তারক্ষীদের নির্দেশ দেন, ‘‘ছাত্রদের উপর গুলি চালাও।’’ উনি যখন এই নির্দেশ দিতে পারেন, তখন ওঁকে পদত্যাগ করতে হবে। পদত্যাগ না করা পর্যন্ত ঘেরাও চলবে।’’

আন্দোলনরত এস এফ আই ছাত্র নেতা সোমনাথ সৌ বলেন, “আমরা ১০ দিন আগেই জানিয়েছিলাম দাবি সনদ পেশের কথা। কর্মসচিবের কাছে তা পেশ করতে বলা হয়েছিল। সাতদিন আগে তা জমা দিয়েছিলাম। সাতদিনের মধ্যে উত্তর চেয়েছিলাম। কিন্তু তা না মেলায় বুধবার উপাচার্যের কাছে আসা। আমরা আসতেই উপাচার্য নিরাপত্তারক্ষীদের আমাদের দিকে এগিয়ে দেন।ছাত্র ছাত্রীদের প্রতি ওনার প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির স্বীকার আমরা সবাই। আমরা রবীন্দ্র প্রতিষ্ঠান থেকে ওনার বিদায় চাই।”

শুধু উপাচার্য নয়, ছাত্র ছাত্রী দের আন্দোলনে আটকে পড়েন বিশ্বভারতীর বহু আধিকারিক কর্মীরা।তাদেরও বেড়তে দেয়নি আন্দোলনকারীরা। বিশ্বভারতীর কর্মী রাজীব ঝাঁ উদ্ধত অবস্থায় ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে বচসায জড়িয়ে পড়েন। তিনি দাবি করেন, ” উপাচার্যের গায়ে হাত দেওয়া হয়েছে। তাকে শারীরিকভাবে নিগ্রহ করা হয়েছে। উপাচার্যকে ডাক্তার দেখতে আসতে চাইল ছাত্র-ছাত্রীরা ডাক্তারকে ঢুকতে বাধা দিচ্ছে।” যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বভারতী তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ইউনিটের সভাপতি মীণাক্ষী ভট্টাচার্য বলেন, “আমার উপাচার্যের উপর কোন আক্রমণ করি নি। উল্টে উনি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা ছয় বছরের রিসার্চ নষ্ট করার জন‍্য উনি উঠে পড়ে লেগেছেন। উচ্চ শিক্ষায় মহিলাদের জন‍্য কিছু সুবিধা পাওয়ার জন‍্য আবেদন করলে, আটকে দেওয়া হচ্ছে। ঘৃণ্য চক্রান্তকারী উপাচার্য আমরা চাই না। “

ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ শানিয়েছেন উপাচার্য। ছাত্রছাত্রীদের একাংশ মারধর করতে উদ্যত হয় বলেও অভিযোগ করেন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। পড়ুয়াদের ঘেরাও আন্দোলন নিয়ে ক্ষুব্ধ বিদ্যুৎ বলেন, ‘‘দাবিগুলি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কিন্তু, আমাকে হেনস্থা করা হচ্ছে। আমার দুঃখ হচ্ছে যে, রবীন্দ্রনাথের বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অভদ্রতা, বাপ-মা তুলে গালাগালি দেওয়া চলছে। আমার কাছে এর প্রমাণ আছে। আমি নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি। গায়ের জোর দেখানো হচ্ছে।’’ এ নিয়ে তিনি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *