গোয়ালপাড়া (অসম), ২৩ অক্টোবর (হি.স.) : রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই নিম্ন অসমের গোয়ালপাড়ায় উদ্বোধন করা হয়েছে ‘মিয়াঁ মিউজিয়াম’। অসমে মিয়াঁ (মুসলমান) সম্প্রদায়ের প্রাচীনকাল থেকে ব্যবহৃত পুরানো সামগ্রী সংরক্ষণের জন্য এই জাদুঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে, দাবি উদ্যোক্তাদের।
রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রদর্শনকারী গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়িতে শ্রীমন্ত শংকরদেব কলাক্ষেত্রে একটি ‘মিয়াঁ মিউজিয়াম’-এর দাবি উঠেছিল। এ নিয়ে বহু বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিতৰ্কের অবসান হয়নি, এরই মধ্যে আজ রবিবার গোয়ালপাড়া জেলার অন্তর্গত দাপকরভিটার লক্ষ্মীপুরে গোয়ালপাড়া জেলা মিয়াঁ পরিষদ একটি ‘মিয়া মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধন করেছে।
‘মিয়া মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুসলমান সম্প্রদায়ভুক্ত বহুজনের পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথি এবং মিয়াঁ পরিষদের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে, ২০২০ সালে শংকরদেব কলাক্ষেত্রে একটি ‘মিয়াঁ মিউজিয়াম’ স্থাপন করতে প্রাক্তন কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলি আহমেদ প্রস্তাব রেখেছিলেন। শেরমানের ওই প্রস্তাব অসমিয়া ঐতিহ্য-পরম্পরা নষ্ট করার ষড়যন্ত্র বলে তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা। তদানীন্তন কংগ্রেস বিধায়ক শেরমান আলির ওই প্রস্তাবকে তাঁর ঔদ্ধত্য বলে অসমে এখনও বিতর্ক চলছে।
ওই সালের ১৮ অক্টোবর জাদুঘর পরিচালকের কাছে একটি চিঠিতে শেরমান আলি আহমেদ চর-চাপরি (নদীর চর) এলকায় বসবাসকারীদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত করে কলাক্ষেত্রে একটি মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার আবেদন করেছিলেন। এর পর রাজ্য বিধানসভায়ও শিল্প ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির কাছে এ সম্পর্কে সুপারিশ করেছিলেন শেরমান।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা বিধানসভায় কংগ্রেস বিধায়কের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, অসমের চর অঞ্চলে কোনও আলাদা পরিচয় বা সংস্কৃতি নেই। কারণ সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দাই বাংলাদেশ থেকে আগত। তাছাড়া শংকরদেব কলাক্ষেত্র হল অসমিয়া সংস্কৃতির প্রতীক, সরকার এর কোনও ধরনের বিকৃতি হতে দেবে না।

