রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে মমতাকে তোপ স্মৃতি ইরানির

হাওড়া, ২২ অক্টোবর (হি.স.): “চাকরিপ্রার্থীরা বিক্ষোভ দেখালে ব্যবস্থা নিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তাহলে তাঁর দুর্নীতিগ্রস্থ নেতা-মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিলেন না ।” রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতি প্রশ্নে মমতা বন্দোপাধ্যায়কে এভাবেই তোপ দাগলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি । শুক্রবার দুইদিনের হাওড়া সফরে এসেছেন ৷ এদিন তিনি বলেন, “নিজেদের ন্যায্য চাকরি না-পেয়ে শিক্ষা দফতরের সামনে চাকরিপ্রার্থীরা অবস্থান করলে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশ দিয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছেন তাঁদের বিরুদ্ধে । অথচ শিক্ষা দফতরের মন্ত্রীর পদে বসে চাকরির বিনিময়ে টাকা খাওয়ার পরেও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিলেন না তিনি ?”

কলকাতায় টেট চাকরিপ্রার্থীদের বিক্ষোভ নিয়ে গোটা বাংলাজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। নিয়োগের দাবিতে গত সোমবার থেকে করুণাময়ীতে আন্দোলন শুরু করে চাকরিপ্রার্থীরা। কলকাতার করুণাময়ীতে বৃহস্পতিবার রাতে মাইকিং করে সকলকে বিক্ষোভকারীদের বিক্ষোভ সরিয়ে নিতে বলে পুলিশ। কিন্তু সেই কথায় বিক্ষোভকারীরা কান না দেওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের উপর লাঠিচার্জ এবং জোর করে গেফতার করার অভিযোগ ওঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনাই রাজনৈতিক আগুন ঘৃতাহুতি করেছে। যার রেশ পৌঁছেছে কেন্দ্র পর্যন্ত। বাংলার ঘটনা নিয়ে এবার সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। টেট উত্তীর্ণদের সঙ্গে পুলিশের ব্যবহার এবং রাজ্য সরকাররে নিষ্ক্রিয় থাকা নিয়ে স্মৃতি ইরানি তোপ দেগে বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের “অপশাসন ও দুর্নীতি” দেখছে গোটা দেশ। “আমার একটাই প্রশ্ন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার যারা শিক্ষক নিয়োগ কেলেঙ্কারির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছিল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। কিন্তু, পার্থ চট্টোপাধ্যায় যখন এই কেলেঙ্কারি করেছিল তখন কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? এই বিভাগের কর্মকর্তারা যখন অন্যায় করে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?”

এর পরেই তিনি কড়া সুরে বলেছেন, “পুরো দেশ পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকারের অপশাসন, দুর্নীতি এবং নির্যাতন দেখছে।” এখানেই শেষ নয় এদিন সিঙ্গুর থেকে টাটার বিদায় নেওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেরও তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্মৃতি ইরানি। এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল, মমতা বলেছিলেন সিঙ্গুর প্রসঙ্গে বলেছিলেন, ” আমি নয় সিঙ্গুর থেকে টাটা মোটরসকে তাড়িয়েছিল সিপিআইএম।” এই মন্তব্যই বাংলার রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে।

সিঙ্গুর নিয়ে স্মৃতি ইরানি বলেছেন, “আমি অবাক হয়েছি যে তিনি মিথ্যা বলছেন যে তিনি টাটাদের তাড়িয়ে দেননি। এমনকি পশ্চিমবঙ্গের অষ্টম শ্রেণীর বাচ্চাও জানে যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরে কারখানাটি বন্ধ করার জন্য কী ধরণের রাজনীতি করেছিলেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *