পাথারকান্দি (অসম), ৬ অক্টোবর (হি.স.) : মহিলাদের সিঁধুর খেলা, শোভাযাত্রা ও হাতে হাতে অপরাজিতা বাঁধনের মধ্যে দিয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে দেবী দুর্গার নিরঞ্জনপর্ব সম্পন্ন হয়েছে বৃহত্তর পাথারকান্দিতে। এতে বাঁধভাঙা আনন্দ উচ্ছ্বাসে ভেসে গিয়েছিল গোটা এলাকা জুড়ে।
আসছে বছর আবার হবে…, এই আবেদনকে সামনে রেখে বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় চিরাচরিত প্রথা অনুযায়ী পাথারকান্দির থানা সংলগ্ন লঙ্গাই নদীর বিসর্জন ঘাটে একে একে ৩৬টি প্রতিমা নিরঞ্জন হয়। এতে প্রশাসনের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষ্যে এলাকার স্থানে স্থানে মেলাও বসে।
এদিন পাথারকান্দির সলগই, লোয়াইরপোয়া, বাজারিছড়া, ইচাবিল, কটামণি, রাঙামাটি, নাগরা, চুড়াইবাড়ি, কাঁঠালতলি, সোনাখিরা, চাঁদখিরা, তিনখাল, আদমটিলা, ভুবরিঘাট, হাতিখিরা, মেদলি, পাথিনি, তিলভুম প্রভৃতি স্থানেও শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বিঘ্নে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়। এর আগে মহাষষ্ঠীর সন্ধ্যায় প্রতিটি মণ্ডপে প্রতিমা আনয়ন ও বিল্বতলে বিশেষ পুজোর্চনার মধ্য দিয়ে দেবীর আগমনীর সুর বেজে উঠেছিল।
এবার বৃহত্তর পাথারকান্দিতে ছোট বড় প্রায় দু-শতাধিক বারোয়ারি পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মহাসপ্তমী ও অষ্টমীর সন্ধ্যায় ঝিরঝির বৃষ্টির জন্য মণ্ডপে মণ্ডপে খুব একটা জনসমাগম না হলেও মহানবমীর সন্ধ্যা থেকে শহরের প্রতিটি পুজোমণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এবং যানজট এড়াতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ছিল সক্রিয়। বিদ্যুৎ বিভাগ ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি বিভাগ তৎপর থাকায় পুজোর চারদিন বিদ্যুৎ সহ পানীয় জলের যোগান ছিল স্বাভাবিক। এজন্য এলাকার জনগণ সংশ্লিষ্ট প্রতিটি বিভাগকে সাধুবাদ জানান।
প্রতিমা নিরঞ্জন পর্বে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এসডিআরএফ থেকে শুরু করে অগ্নিনির্বাপক বাহিনী সহ স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে জড়িত জরুরিকালীন পরিষেবাগুলোকেও প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাথারকান্দি শহরের দু-একটি সর্বজনীন পুজো কমিটি ছাড়া বেশিরভাগ পুজোই একেবারে জৌলুসহীন ছিল। প্রত্যন্ত গ্রামবাসীদের আয়োজিত পুজো মণ্ডপে সাজসজ্জা কম হলেও অনেক পুজোর কর্মকর্তাদের আন্তরিকতার প্রশংসা কুড়িয়েছে।
দশমীর সকাল থেকেই প্রতিটি মণ্ডপে সিঁধুর ও আবির খেলা ও শেষে মূর্তি নিরঞ্জনে শামিল থেকে গান ও ঢাকের তালে ছেলেদের সঙ্গে মহিলারাও কোমর দুলিয়ে নেচেছেন। ভাসান পর্বে পাথারকান্দি বিসর্জন ঘাটে স্থানীয় শিববাড়ি সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটির পক্ষে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটাতে রাবণের বিশাল পুত্তলিকা দাহন করা হয়েছে।

