তিন বছর পর মহা নবমীতে দুর্গা বাড়িতে গুপ্তভাবে সম্পন্ন হল মহিষ বলি

আগরতলা, ৪ অক্টোবর (হি. স.) : তিন বছর পর মহা নবমীতে ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় দুর্গা বাড়িতে মহিষ বলি হয়েছে। তবে, চারিদিকে ত্রিপাল টাঙিয়ে তার ভেতরে মহিষ বলি দেওয়া হয়েছে। কারণ, আদালতের আদেশে জন সমক্ষে বলি নিষিদ্ধ। তাই, এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।

রাজন্য আমল থেকেই মহা নবমীতে দুর্গা বাড়িতে মহিষ বলির প্রথা রয়েছে। কিন্তু, ত্রিপুরা হাই কোর্টে বলি নিষিদ্ধ করার আবেদনে জনস্বার্থ মামলায় ওই প্রথা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছিল। ২০১৯ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ত্রিপুরা হাই কোর্ট ওই মামলায় বলি নিষিদ্ধের রায় দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপে বলি প্রথা পুণরায় চালু হয়েছে। তবে, উন্মুক্ত স্থানে বলি দেওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা সুপ্রিম কোর্ট বহাল রেখেছে। তার বদলে আবদ্ধ ঘরের ভেতরে বলি দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। উদয়পুর ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে ইতিমধ্যে ওই রায় কার্যকর হয়েছে। সেখানে মন্দিরের পাশেই অস্থায়ী আবদ্ধ ঘরে বলি দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, আগরতলায় দুর্গা বাড়িতে মহিষ বলি গত তিন বছর ধরে বন্ধ ছিল।

প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে এবছর দুর্গা বাড়িতে মহিষ বলি হয়েছে। আগরতলায় দুর্গা বাড়ি মন্দিরের পুরোহিত জয়ন্ত ভট্টাচার্য জানান, আদালতের নির্দেশের পর তিন বছর ধরে এই মন্দিরে বলি বন্ধ ছিল। কিন্তু, প্রশাসনের অনুমতি পেয়ে মহা নবমীতে মহিষ বলি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, উন্মুক্ত স্থানে বলি দেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, সকাল সাড়ে আটটা থেকে মা দুর্গার মহা নবমী পূজা শুরু হয়েছে। পূজা সমাপ্ত হওয়ার পর মহা বলির আয়োজন করা হয়েছে। উন্মুক্তভাবে বলির বদলে গুপ্তভাবে মহিষ বলি দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে সমস্ত প্রথা মন্দিরের তরফে মানা হয়েছে।

এদিন মহিষ বলি দেখার জন্য প্রচুর মানুষ দুর্গা বাড়িতে ভিড় জমিয়েছিলেন। কিন্তু, তাঁরা সরাসরি বলি দেখতে পারেননি। তবে, বলি সমাপ্ত হওয়ার পর আশীর্বাদ হিসেবে মহিষের রক্ত কপালে মেখেছেন। পৌরাণিক কথা অনুযায়ী, মহিষ বলির পর রক্ত শরীরে মাখলে পুণ্য হয় এবং রোগব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *