কলকাতা, ২৬ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : জামিন হল না এসএসসি-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্যের। তাঁকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিচারবিভাগীয় হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিবিআই সুবীরেশবাবুকে নিজেদের হেফাজতে ফের নেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছিল। আদালত সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে। আদালত সূত্রের খবর, বিচারক সিবিআই আইনজীবীর কাছে আরও জানতে চান, এই ৬ দিন সুবীরেশ তাঁদের হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও তদন্ত কতটুকু অগ্রসর হল। তদন্তের গতি প্রকৃতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেন বিচারক।
এক সপ্তাহ আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল সুবীরেশ ভট্টাচার্যকে। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে ভুয়ো নিয়োগ পত্র দেওয়া সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। এসএসসি সংক্রান্ত বাগ কমিটির রিপোর্টেও নাম ছিল এসএসসির প্রাক্তন চেয়ারম্যানের। বস্তুত, যে সময়ে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে, সেই সময়ে এসএসসির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন সুবীরেশবাবু। সিবিআই আদালতকে বলেছিল, ৩৮১টি ভুয়ো নিয়োগ পত্র দেওয়ার ঘটনায় হেফাজতে নিয়ে জেরা করা দরকার তাঁকে। নিজাম প্যালেসে গত এক সপ্তাহ ধরে চলেছে সেই জিজ্ঞাসাবাদ।
সোমবার সেই হেফাজতের মেয়াদ শেষ হতে সুবীরেশকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। শুনানি চলাকালীন সিবিআই আবার সুবীরেশকে হেফাজতে চেয়ে আবেদন করে আদালতের কাছে।
এসএসসি দুর্নীতিতে তাঁর কোনও ভূমিকা নেই বলে প্রথম থেকেই দাবি করছিলেন সুবীরেশবাবু। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য ছিল, সুবীরেশবাবু এখনও প্রভাবশালী। এসএসসির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরে যাওয়ার পরও তিনি এখনও উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে রয়েছেন। দার্জিলিং হিলস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যও করা হয়েছে তাঁকেই। সেই সঙ্গে তিনি কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ কলেজের অধ্যক্ষ, নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি, এমনকি, রাজ্যের উপাচার্য পরিষদের সম্পাদকও।
সিবিআই সূত্রে খবর, গত সাত দিন সুবীরেশকে জেরা করে প্রভাবশালী সংক্রান্ত বেশ কিছু তথ্য সিবিআইয়ের হাতে এসেছে। সুবীরেশবাবুর বয়ানের সূত্র ধরে বেশ কয়েকজনকে জেরাও করতে চায় তারা। এ সংক্রান্ত আরও তথ্য হাতে পেতেই সুবীরেশকে হেফজতে নিয়ে জেরার আবেদন করে সিবিআই।