মালদা, ১৭ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : আর্থিক অনটন বা কাজের চাপ দমিয়ে দিতে পারেনি তাঁর সৃষ্টিশীল চেতনাকে। কখনও সুতো বা কখনও কমলালেবুর খোসা আবার কখনও তেজপাতার দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে চমকে দিয়েছেন পেশায় হোমগার্ড কর্মী বিষ্ণুপদ সাহা। হোমগার্ড হলেও তাঁর নেশা প্রতিমা তৈরি। তাই নিজের কর্ম ব্যস্ততার ফাঁকে যেটুকু সময় পান সেই সময়ে প্রতিমা তৈরিতেই মনোযোগ দেন তিনি।
মাঝে দুই বছর করোনা পরিস্থিতিতে মনের মতো করে প্রতিমা তৈরি করতে পারেননি তিনি । তাই এই বছর আবারও নতুন চমক দিতে চলেছেন হোমগার্ড। এ বছর মাটি বাঁচানোর বা মাটি সংরক্ষণের বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে তাঁর এই উদ্যোগ। এবারে মাটি ছাড়াই প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। মাটির পরিবর্তে প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করছেন গম ও ধানের তুষ।
প্রতিমার অলঙ্কার ও বস্ত্র তৈরি হচ্ছে রাংতা দিয়ে। চিরাচরিত প্রথার বাইরে বেরিয়ে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবনাচিন্তার এই প্রতিমা এখন থেকেই আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষের কাছে। দুই মাস ধরে তিনি শুরু করেছেন নয়া এই প্রতিমা তৈরির কাজ। জানা গিয়েছে, এখন কাজ চলছে জোর কদমে। তিনি জানিয়েছেন, নিজের কাজের পরে যে সময় পান সেই সময় তিনি প্রতিমা তৈরি করেন। তাই সময় লাগে একটু বেশি।
প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সর্বজনীন দুর্গাপুজো কমিটিগুলি একে অপরকে টেক্কা দিতে উঠে পড়ে লেগেছেন। এর ফলে মাটির ব্যবহারও বেশি হচ্ছে। বর্তমানে মাটির সমস্যা দেখা দিয়েছে। যে সমস্ত এলাকায় মাটি কাটা হয় সেখানে গাছপালা আশেপাশের পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। মানুষ যাতে মাটির ব্যবহার কম করেন, সেই বার্তা দিতেই এমন অভিনব চিন্তাভাবনা। মাটি ছাড়া এই প্রতিমা এবার স্থান পাবে মালদা শহরের ২ নম্বর গভর্মেন্ট কলোণী বাঘাযতীন সর্বজননীর মণ্ডপে। বিষ্ণুপদ সাহার কর্মজীবন শেষ হতে আর মাত্র ২ মাস বাকি। হোমগার্ড কর্মীদের কোনও পেনশনও নেই। তাই আগামীতে প্রতিমা তৈরি করাকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে চান তিনি।