জামিন চেয়ে শুনানিতে কেঁদে ফেললেন পার্থ, ফের জেল হেফাজত প্রার্থনা ইডি-র

কলকাতা, ১৪ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : স্কুল সার্ভিস কমিশনের ‘নিয়োগ-দুর্নীতি’ মামলার শুনানি চলাকালীন কেঁদে ফেললেন জেলবন্দি রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। কাঁদতে কাঁদতে আদালতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘জামিন দিন, বাঁচতে দিন।’’

১৪ দিনের জেল হেফাজত শেষে বুধবার আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে পার্থকে আদালতে হাজির করানো হয়। পার্থবাবুর কথায়, “ইডি আধিকারিকরা আমার বিধানসভা ক্ষেত্রে এসে দেখুন, আমি কে, আমার পরিবার কী, এত টাকার আমি কী করব। কোথা থেকে আসবে এত টাকা?” এরপরই আদালতে কেঁদে ফেলেন তৃণমূলের প্রাক্তন মহাসচিব। ধরা গলা বলেন, “প্রয়োজনে আমাকে ঘরে আটকে রাখুন। বাড়িতে বন্ধ করে রাখুন। কিন্তু আমাকে জামিন দিন।” শুনানি চলাকালীন নিজের জামিনের প্রসঙ্গ উঠতেই কেঁদে দেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর জামিনের আবেদন করেন তাঁর আইনজীবী। বিচারপতি তাঁর আরজিতে সায় দেন কিনা সেটাই এখন দেখার।

তিন দফায় ইডি হেফাজতের পর পার্থবাবু বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। বুধবার তাঁকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে শুনানি চলাকালীন বিচারক বিদ্যুৎকুমার রায় জানান, পার্থবাবু চাইলে কিছু বলতে পারেন। এর পরেই বিচারকের উদ্দেশে নিজের রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ টেনে আনেন প্রাক্তন মন্ত্রী। বাম আমলে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ছিলেন পার্থ। সেই সময়ের কথাও বলতে শোনা যায় তাঁকে।

আদালত সূত্রে খবর, পার্থবাবু বিচারককে জানান, তাঁকে তিন বেল ওষুধ খেতে হয়। নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে তাঁর। তদন্তকারীরা তাঁর বাড়িতে ৩০ ঘণ্টা তল্লাশি চালিয়েও কিছু উদ্ধার করতে পারেননি। তার পরেও কেন তিনি জামিন পাচ্ছেন না, সেই প্রশ্নই তুলতে দেখা যায় পার্থবাবুকে।

আদালত সূত্রের দাবি, অনর্গল কথা বলতে বলতে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন পার্থ। শারীরিক পরীক্ষার জন্য তাঁকে যে ভাবে জোকার ইএসআই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ তুলেই কেঁদে ফেলেন তিনি।