হাওড়া, ১৩ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : নবান্ন অভিযানে গিয়ে পুলিশের বাধায় পড়লেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ছাড়াও রাহুল সিনহা ও লকেট চট্টোপাধ্যায় আটক হন পুলিশের হাতে। এতে কিছুটা ধাক্কা খায় বিজেপি-র সাঁতরাগাছিগামী মিছিল।
বিজেপির মিছিল আটকাতে তৈরি ছিল পুলিশের বাহিনী।পুলিশ সূত্রে খবর, নিরাপত্তা ব্যবস্থার নজরদারিতে ছিলেন বিশেষ কমিশনার দময়ন্তী সেন। শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার তদারকিতে ছিলেন দু’জন করে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিলেন ১৮ জন ডিসি পদমর্যাদার আধিকারিক। এ ছাড়াও ৩২ জন অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ৬২ জন ইনস্পেক্টর ছিলেন।
মঙ্গলবার দলের নবান্ন অভিযানে যোগ দিতে বেহালার বাড়ি থেকে সকালে বেরোন শুভেন্দুবাবু। জেমল লং সরণি, তারাতলা হয়ে দ্বিতীয় হুগলি সেতুর দিকে যান তিনি। সাঁতরাগাছি হয়ে নবান্ন যেতে চান তিনি। কিন্তু পিটিএসের কাছে শুভেন্দু, লকেট, রাহুলদের আটকায় পুলিশ।
সাঁতরাগাছি বাসস্ট্যান্ডের কাছে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে পুলিশি তৎপরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। হাওড়ার বেলেপোলের কাছে যান চলাচল নিয়ন্ত্রিত করা হয়েছে। সাঁতরাগাছিতে কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে রাস্তা খুঁড়ে লোহার বিম ঝালাই করে ব্যারিকেড করা হয়েছে। যাতে কোনওভাবেই এই ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে না পারেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
শুভেন্দুবাবু অভিযোগ করেন, মহিলা অফিসারদের দিয়ে তাঁকে আটকানো হচ্ছে। তিনি বলতে থাকেন, ‘‘ডোন্ট টাচ মাই বডি। ইউ আর অ্যান উইম্যান অ্যান্ড আই অ্যাম মেল (আপনি মহিলা এবং আমি পুরুষ)।’’
অন্যদিকে, পুলিশের তরফে বলা হয়, পুলিশের কোনও মহিলা-পুরুষ ভাগ নেই। কিন্তু শুভেন্দু বলতে থাকেন, ‘‘আমার গায়ে হাত দেবে কেন?’’
এই ভাবে বেশ কিছুক্ষণ তর্কাতর্কি চলে। শুভেন্দু জানান, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়কে গাড়ি করে পৌঁছে দেওয়া হোক। তিনি লোকাল ট্রেনে যাবেন। যদিও তার পরও সেখান থেকে তাঁকে এগোতে দেওয়া হয়নি। কিছু ক্ষণ পর শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দেন তিনি হাই কোর্টে মামলা করবেন। পাশে ছিলেন লকেট এবং রাহুল। শুভেন্দু নিজেই বলেন, ‘‘আমাকে গ্রেফতার করুন।’’ এর পর তিন জনকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। ফলত, সাঁতরাগাছি হয়ে নবান্নে যাওয়া হচ্ছে না শুভেন্দুর।
দীর্ঘ তর্কাতর্কির পর ব্যারিকেডে ধাক্কা দিতে থাকেন নন্দীগ্রামের বিধায়ক। এর পর ‘ভয় পেয়েছে মমতা, বুঝে গেছে জনতা’, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হায় হায়’ বলে স্লোগান তোলেন তিনি। পাশে যোগ দেন লকেট। শেষে শুভেন্দু, সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংকে পিটিএসের সামনে থেকে আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলে পুলিশ। সাঁতরাগাছি হয়ে নবান্ন যাওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে যায় তাঁদের।