হুগলি, ১২ সেপ্টেম্বর (হি. স.) : অব্রাহ্মণ হলেও দীর্ঘ দিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করছেন পান্ডুয়া রামেশ্বরপুরের ঘোষ পরিবার। প্রথম থেকে তাঁরা নিজেরাই ঠাকুর তৈরি থেকে পুজো করেন।
পুজোর আগে হাতে বাকি মাত্র আর কয়েক দিন। আর এই সময় ঠাকুরের কাঠামো থেকে মুখ বসানো সব কিছুই তৈরি হচ্ছে এই বাড়িতেই। আগে বাড়ি কর্তারাই মূর্তি তৈরি করতেন। কিন্তু, এখন বয়স জনিত কারণে স্থানীয় এক কুমোর এবং পরিবার মিলে এই ঠাকুর তৈরি করে।
বহু বছর আগে মথুর মোহন ঘোষ সিপাহী বিদ্রোহের সময় এই পুজো শুরু করেছেন। তবে কোনও এক কারণে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ বছর পুজো বন্ধ ছিল। পরে স্বপ্নাদেশ পেয়ে কৃষ্ণ ধন এই পুজো আবার শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে ঈশ্বর কৃষ্ণ ধোন ঘোষ এই পুজোর সূচনা করেন। তিনি স্বপ্ন দেখেই এই পুজো শুরু করেছিলেন। আনুমানিক ২৭ বছর ধরে এই পুজো হয়ে আসছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে এই বাড়িতে এক চালা মূর্তিতে পূজিত হয়ে আসছেন মা দুর্গা। বনেদি বাড়ি না হলেও বনেদি ঘরানার মতোই নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করেন এই পরিবারের সদস্যরা।
এখানে পুজোর সব আচার বিধি মানা হয়। এমনকী, চণ্ডীপাঠ করেন ওই পরিবারের মহিলারাই। বাড়ির ছেলে দেবজ্যোতি ঘোষ তিনি নিজেই এই পুজো করেন। তাঁর বাবার কাছেই তিনি পুজো করা শিখেছেন। জামাইবাবুরা ঢাক বাজান। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমীতে বাড়ির মহিলারাই চণ্ডী পাঠ করেন। পশু বলির বদলে এখানে দেওয়া হয় মধুবলী। পুজোয় দাদুর প্রতিষ্ঠা করা হাট থেকেই আসে ফল ফুল। সেভাবে বাইরে থেকে কিছু কিনতে হয় না।
চণ্ডীপাঠ হয় পুজোর চারটে দিন। বাড়ির প্রতিটা সদস্যের এক একটি করে কাজ ভাগ করা আছে। সেই দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাঁরা। অষ্টমীপুজোর সময় তোপ ধ্বনি না হলেও বাড়ির লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুকের ধ্বনি শোনা যায়। নবমীর দিন কুমারী পুজোর চল রয়েছে এই বাড়িতে। জাতপাতের ভেদ না করেই চণ্ডাল, বাউরি ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মেয়েদের এখানে কুমারী করা হয়।
এক সময় এই বাড়ি ছিল জমিদারদের কাছারি বাড়ি। জমিদারদের কাছ থেকে মধুর মোহন ঘোষ এই বাড়ি কিনেছিলেন। এক চালার দুর্গা প্রতিমার দু’পাশে থাকে লক্ষ্মী, গণেশ, সরস্বতী ও কার্তিক। এই পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, সরস্বতীর হাঁস ও লক্ষ্মীর পেঁচা থাকে না। দুর্গাপুজো ছাড়াও কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো ও কালীপুজো হয় এই বাড়িতে।

