নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৭ জুলাই৷৷ কৈলাসহরের ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক শিশুকন্যার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে৷ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে৷
ভুল চিকিৎসার মাসুল দিল নয় বছরের শিশু৷
ঘটনাটি ঘটে কৈলাশহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে৷ সংবাদে প্রকাশ গৌরনগর আর ডি ব্লকের অধীনে লাঠিয়াপুরা কালিপুর এলাকার বাসিন্দা হিরেস মালাকার হত দরিদ্র এক ব্যক্তি৷ বর্তমানে হিরেশ মালাকার অসুস্থতার কারণে বিছানায় শয্যাশায়ী৷ পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস বর্তমানে স্ত্রী জোনাকি মালাকার৷ হিরেস মালাকারের কন্যা তনুশ্রী জ্বর এবং পেটের সমস্যা নিয়ে গতকাল রাতে কৈলাসহর ঊনকোটি জেলা হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়৷ আজ সকালেও তনুশ্রী মালাকারের শারীরিক অবস্থা ভালো ছিল বলে জানা যায়৷ কিন্তু বেলা অনুমানিক ১০ টার সময় তনুশ্রী মালাকারের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর তনুশ্রী মালাকারের মা জোনাকি মালাকর হাসপাতালের এক নার্সকে বলেন আমার মেয়ে কেমন যেন করছে৷ নার্স ছুটে আসে দেখতে পায় যে তনুশ্রী মালাকার সুস্থ আছে৷
পরবর্তী সময় চোখের ডাক্তার ডি কে পাল এসে তনুশ্রী মালাকারের খোঁজখবর নেন৷ তখন জোনাকি মালাকারের মা ডাক্তারকে বলেন ওষুধ লাগবে নাকি৷ ডাক্তার বাবু বলেন, ওষুধ কেনার প্রয়োজন নেই৷ ওষুধ হাসপাতাল থেকে দেওয়া হবে৷ এরপর চোখের ডাক্তার ডি কে পাল একটি ইনজেকশন তনুশ্রী মালাকারের শরীরে দেওয়া মাত্রই তার সমস্যা আরো খারাপ হতে থাকে৷ ঠোঁট এবং জিহ্বা কালো হয়ে যায় এবং জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তনুশ্রী মালাকার৷ এর কিছুক্ষণ পর মৃত্যুর কূলে ঢোলে পড়ে তনুশ্রী৷
তনুশ্রী মালাকারের মা জোনাকি মালাকার নিজের মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ শুনতে পেয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন৷ এই ব্যাপারে তনুশ্রী মালাকারের মা জোনাকি মালাকার সংবাদ মাধ্যমকে জানায় ভুল চিকিৎসা করার ফলেই তার সন্তানের মৃত্যু ঘটেছে৷ উক্ত বিষয় নিয়ে পরিবারের তরফ থেকে কৈলাশহর থানায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানানো হয়৷ তনুশ্রী মালাকারের এই অকাল মৃত্যুতে হাসপাতাল এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷