খোয়াই, ২৫ জুলাই৷৷ খোয়াই থেকে কমলপুর পর্যন্ত জাতীয় সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে৷ অথচ দুর্নীতিগ্রস্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না৷ তাতে ক্ষোভে ফুসছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার জনগণ৷ জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার নিকট থেকে টেন্ডার প্রাপক কলকাতার একটি কোম্পানি খোয়াইয়ের গনকি থেকে কমলপুরের শ্রীরামপুর পর্যন্ত ২৫.৬ কিমি রাস্তা তৈরি করতে গিয়ে ব্যাপক দুর্নীতি করছে৷ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণ বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন এবং প্রতিবাদও করছেন৷
জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার নিয়ম নীতি বিসর্জন দিয়ে কলকাতার কোম্পানিটি অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করছে৷স্থানীয় জনগণ এ ধরনের দুর্নীতির তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন৷ অভিযোগ উঠেছে কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার তপন কুমার সান্যাল সরাসরিভাবে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত৷ খোয়াই গণকি থেকে কমলপুরের শ্রীরামপুর পর্যন্ত ২০৮ নং জাতীয় সড়কের কাজ শুরু হয়েছিল বহুদিন আগে থেকেই৷ রাস্তার জন্য জমি অধিগ্রহণের পর ওই কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজারের নির্দেশে রাস্তার পাশে বাউন্ডারি দেবার জন্য যে পাথর ব্যবহার করেছিল সেগুলো সঠিক পাথর ছিলনা৷
চেরমা এলাকায় রাস্তার পাশে যে বাউন্ডারি দেওয়া হয় সেক্ষেত্রে একটি পাথরের উপর অপর একটি পাথর সিমেন্টের সহযোগে বসানোর পরিবর্তে শক্ত মাটির বড় টুকরো নিচে বসিয়ে দিয়ে তার ওপর সিমেন্টের প্রলেপ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ৷ স্থানীয় মানুষজন এর প্রতিবাদ করেছিলেন৷ কিন্তু কোম্পানিটি মাটির টুকরো দিয়েই রাস্তার বাউন্ডারির কাজ শেষ করে৷ এছাড়াও রাস্তার উভয় পাশে বক্স সমৃদ্ধ ড্রেন তৈরি করতে গিয়েও অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে৷
চেরমা এলাকায় বহু স্থানীয় মানুষজন জানিয়েছেন কোলকাতার এই কোম্পানিটি যেভাবে নিম্নমানের রাস্তা তৈরি কাজ করছে সেই কাজের প্রতিবাদ করেও লাভ হচ্ছে না৷ স্থানীয় পূর্ত দপ্তর, মহকুমা প্রশাসন বা জেলা প্রশাসন এই সমস্ত দুর্নীতি নিয়ে এগিয়ে না আসায় তারা তাদের মর্জিমাফিকই কাজ করছে৷ সম্প্রীতি সিঙ্গি ছড়া থেকে বাচাই বাড়ি অব্দি জাতীয় সড়ক নির্মাণকারী সংস্থার ভারী গাড়ির চাপে পুরনো পূর্ত দপ্তরের রাস্তার একেবারে বারোটা বেজে গেছে৷ নিয়ম অনুসারে ওই কলকাতার কোম্পানিটি ভগ্ণ পূর্ত রাস্তা সারাই এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা থাকলেও এক্ষেত্রেও দুর্নীতি চলছে সর্বত্র৷
কোম্পানির প্রজেক্ট ম্যানেজার তপন কুমার সান্যাল সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন ভগ্ণ পূর্ত সড়ক প্রথম শ্রেণীর ইট দিয়ে সারাই করে দিচ্ছেন৷ বাস্তবে সান্যাল বাবু ইট এর পরিবর্তে গাড়ি ভর্তি করে মাটি ফেলছেন লালছড়া থেকে চেরমা অব্দি ভগ্ণ পূর্ত রাস্তায়৷ আর এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতে এই তিন চার কিলোমিটার রাস্তা এতটাই ভয়ানক হচ্ছে যে চার চাকার গাড়ি পর্যন্ত রাস্তা ধরে যেতে পারছে না৷ চেরমা অঞ্চলের স্থানীয় মানুষজন এই জাতীয় সড়ক নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি নিয়ে খুব শীঘ্রই প্রতিবাদে নামছেন বলে জানিয়েছেন৷জাতীয় সড়ক নির্মাণ কাজের দুর্নীতির সঠিক তদন্ত হলে আসল রহস্য বেরিয়ে আসবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না৷ কিন্তু কেন এর তদন্ত হচ্ছে না তা নিয়ে এই প্রশ্ন স্থানীয় মানুষজনের৷ এর পেছনে আরো বড় ধরনের কোন চক্র থাকতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন৷