লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণের বিরোধিতা ডিমাসা জেলায়

হাফলং (অসম), ৯ জুলাই (হি.স.) : লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণের বিরোধিতায় সোচ্চার ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সহ পাহাড়ি জেলার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। বিকল্প রেলপথ নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করে ইতিমধ্যে ডিমা হাসাওয়ের জেলাশাসক নাজরিন আহমেদর মাধ্যমে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের উদ্দেশে এক স্মারকপত্র পাঠিয়েছে বিরোধিতাকারী সংগঠনগুলি।

এ ব্যাপারে ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রমিথ সেংইয়ং বলেন, সম্প্রতি প্রকৃতির রোষে পড়ে লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ রেলপথের প্রায় ৮৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে প্রায় ৬০টি স্থানে ধস নেমে রেলসড়ক বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলমন্ত্রক লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণের জন্য চূড়ান্ত জরিপের কাজ সম্পূর্ণ করতে ৪৬ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। কিন্তু বিকল্প এই রেলপথ নির্মাণের বিরোধিতা তাঁরা করছেন।

প্রমিথ সেংইয়ং বলেন, কোনও অবস্থাতেই লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণ করতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সহ জেলার সব কয়টি ছাত্র সংগঠন প্রস্তাবিত বিকল্প রেলপথ নির্মাণের তীব্র বিরোধিতা করবে। প্রমিথ বলেন, লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ নির্মাণ হওয়ার পর পাহাড়ে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ব্রডগেজ রেললাইন নির্মাণ করতে গিয়ে অবাধে বনাঞ্চল ধ্বংস করা হয়েছে। অবৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পাহাড় কেটে প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ট করার ফলে ভূমিঙ্খলনে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে অসমের অন্যতম এই পাহাড়ি জেলার। এবার যদি লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণ করা হয় তা-হলে দিয়ুংমুখ সাংবার হয়ে যে রেলপথ নির্মাণে হবে এতে আবার বনাঞ্চল ধ্বংস হবে। এতে সমস্যা আরও বাড়বে।

তাই রেলমন্ত্রককে লংকা-শিলচর ভায়া চন্দ্রনাথপুর বিকল্প রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব বাতিল করে বর্তমান লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজের যে রেলপথ ইঞ্জিনিয়ারিং ফল্ট থাকার পরও ২০১৫ সালে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছিল, তার মেরামত করে লামডিং-বদরপুর ব্রডগেজ রেলপথ বহাল রাখতে হবে, বলেন সেংইয়ং। তাঁর হুমকি, তার পরও যদি সরকার তাঁদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসে তা-হলে তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবে জেলার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।

এদিকে ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন ও জেলার অন্যান্য ছাত্র সংগঠনগুলি গত এক সপ্তাহে শিলচর-সৌরাষ্ট্র ইস্ট-ওয়েস্ট করিডোর তথা ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কে পৃথক পৃথক দুর্ঘটনায় যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে তার জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে দায়ী করে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকরির উদ্দেশ্যে জেলাশাসক নাজরিন আহমেদের মাধ্যমে এক স্মারকলিপি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে প্রমিথ সেংইয়ং বলেন, গত মে মাসে ডিমা হাসাও জেলায় লাগাতার বৃষ্টির জেরে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বহু বাড়িঘর ভূমিধসের দরুন নষ্ট হয়ে গেছে। এতে ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কের দু-একটি স্থানে ধস নেমে চারলেন সড়ক বন্ধ হয়ে এখন ওয়ান ওয়ে হয়ে পড়েছে। কিন্তু এ সব ধস-বিধ্বস্ত এলাকাগুলি সংস্কার করছে না জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। যার দরুন ডিমা হাসাও জেলার মান্দারডিসা থেকে জাটিঙ্গা পর্যন্ত অংশে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে গেছে। বহু স্থানে রাস্তা বন্ধ রয়েছে। ওই স্থানে রাস্তা ডাইভার্ট করে দেওয়া হলেও ডাইভার্শনের কোনও সাইন বোর্ড নেই। তাই দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে।

সেংইয়ং অভিযোগ করে বলেন, একমাত্র জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা ও অবহেলার দরুনই গত এক সপ্তাহে এই জাতীয় সড়কে পাঁচজন লোকের অকালমৃত্যু ঘটেছে। প্রমিথের অভিযোগ, গত ১৫-২০ বছর থেকে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ২৭ নম্বর জাতীয় সড়কটি সংস্কার না করে এভাবে ফেলে রাখার দরুন ডিমা হাসাও জেলার সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হচ্ছে। তাই অবিলম্বে এ নিয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহণ মন্ত্রী নীতিন গডকড়ির উদ্দেশ্যে স্মারকপত্র প্রদান করেছে ডিমাসা স্টুডেন্টস ইউনিয়ন সহ জেলার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন।