আপডেট : শিলচরে ভয়াবহ বন্যা, ত্রাণ পাঠাল ত্রিপুরা, প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়, বললেন মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ৩০ জুন (হি. স.) : অসমের শিলচরে ভয়াবহ বন্যায় দূর্গতদের পাশে দাঁড়াল ত্রিপুরা। প্রায় ১৬ টন ত্রাণ সামগ্রী আজ আগরতলা থেকে শিলচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে। সম্ভবত আগামীকাল ত্রাণবাহী ওই ট্রাক শিলচর পৌছাবে। কাছাড় জেলার এডিসি পঙ্কজ ডেকা ওই ত্রাণ সামগ্রী গ্রহণ করবেন। ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোশিয়েশনের উদ্যোগে ওই ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। সংগঠনের সম্পাদক তথা সদর মহকুমা শাসক আজ একথা জানিয়েছেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা বলেন, প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়।

এদিন সদর মহকুমা শাসক বলেন, শিলচরে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষ ভয়ানক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন। খাদ্য এবং পানীয় জলের ভীষণ অভাব দেখা দিয়েছে। প্রতিবেশী রাজ্য হিসেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক কর্তব্য। দুই রাজ্যের সম্প্রীতির সম্পর্ক আরো মজবুত করার লক্ষ্যেই বন্যা দূর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স এসোশিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ত্রাণ সামগ্রী শিলচরে বন্যা দূর্গতদের জন্য আজ পাঠানো হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহা উজ্জ্বয়ন্ত প্রাসাদের সামনে থেকে ত্রাণবাহী ওই ট্রাক শিলচরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করেছেন।

সদর মহকুমা শাসক বলেন, ১০০ কুইন্টাল চাল, ২০ কুইন্টাল ডাল সহ শিশু খাদ্য সামগ্রী দুধ, বিস্কুট, কেক এবং চিড়া ও গুড় পাঠানো হয়েছে। ধর্মনগর থেকে আমাদের সংগঠন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা ওই ত্রাণ সামগ্রীর সাথে যাবেন। কাছাড় জেলা এডিসি পঙ্কজ ডেকার হাতে ওই ত্রাণ সামগ্রী ত্রিপুরার পক্ষ থেকে তুলে দেওয়া হবে। তাঁর দাবি, আগামীকাল ওই ত্রাণ সামগ্রী শিলচর পৌছে যাবে।

প্রসঙ্গত, গতকাল ধর্মনগর ও কাঞ্চনপুর মহকুমা কেমিস্ট ও ড্রাগিষ্ট এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে শিলচরে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানো হয়েছে। উত্তর ত্রিপুরা জেলায় বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় বন্যা দূর্গতদের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে।

ফ্ল্যাগ অব অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিকুল পরিস্থিতিতে মানুষই মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এটা সচেতন মানুষের দায়বদ্ধতা। ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন শিলচরের বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়ে এই দায়বদ্ধতারই প্রমাণ দিলেন।

তাঁর কথায়, কোভিড অতিমারি পরিস্থিতি থেকে শুরু করে রক্তদান শিবির, বন্যা পরিস্থিতি সর্বক্ষেত্রেই ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন তাদের জনকল্যানমুখী কর্মসূচি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। এটা অ্যাসোসিয়েশনের একটা মহৎ উদ্যোগ। মুখ্যমন্ত্রী ত্রিপুরা সিভিল সার্ভিস অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের এই কর্মসূচির জন্য তাঁদের সাধুবাদ জানান।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের পক্ষ থেকে তিনি নিজেও এই বন্যা পরিস্থিতির খোঁজখবর নিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন এই ত্রাণ সামগ্রী বন্যা কবলিতদের উপকারে আসবে এবং খুব শীঘ্রই ওখানকার মানুষ এই দুর্যোগ পরিস্থিতি কাটিয়ে আবার সুস্থ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবেন। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *