নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৭ জুন৷৷ শুক্রবার দুপুরে ধর্মনগর প্রেসক্লাবে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়৷ উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিধায়ক উত্তম বারিক, ছাত্রনেতা সুদীপ রাহা, নেত্রী জয়া দত্ত, যুবরাজ নগর বিধানসভা উপনির্বাচনের প্রার্থী মৃণাল কান্তি দেবনাথ, পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত তৃণমূল নেতা লোকেশ কুমার মুখার্জি এবং ত্রিপুরার তৃণমূল নেতা বাপ্ঢু চক্রবর্তী৷
উপনির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী মৃণাল কান্তি দেবনাথ এর প্রচারে এসে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূলের বিধায়ক উত্তম বারিক জানান, ত্রিপুরা রাজ্যের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, রাস্তাঘাট সবকিছুরই খুব করুণ অবস্থা৷ ২০১১ তে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর পদ গ্রহণ করার পর পশ্চিমবঙ্গে শিক্ষা, চিকিৎসা, দুয়ারে সরকার, লক্ষী ভান্ডার, কিষান ক্রেডিট কার্ড, স্বাস্থ্য সাথী, কন্যাশ্রী প্রকল্প, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে মেয়েদের ২৫ হাজার টাকা করে আর্থিক সাহায্য সব মিলিয়ে ৭৪টি প্রকল্প চালু করে তার সুবিধা মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন৷ কিন্তু ত্রিপুরার মানুষ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত৷ যদি পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এতগুলি প্রকল্পের সুবিধা পায়, তবে ত্রিপুরার মানুষ কেন পাবে না? রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার প্রতিষ্ঠা লাভ করলে, তবেই পশ্চিমবঙ্গের মত ত্রিপুরার মানুষ ও সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে লাভবান হবে৷
ছাত্রনেতা সুদীপ রাহা জানান, রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বলতে কিছুই নেই৷ জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ত্রিপুরা রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা৷ নাতুগাও , ঢপিরবন্দ গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির খুব বেহাল অবস্থা৷ এ রাজ্যের আশা কর্মীদের সঠিক কোন বেতন দেওয়া হচ্ছে না৷ পশ্চিমবঙ্গে আশা কর্মীদের বর্তমান মাসিক বেতন ১৮ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে৷ সুতরাং এ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার গড়লে প্রত্যেকটি দপ্তরের কর্মীরা তাদের সঠিক বেতন ভোগ করতে পারবে৷ এই রাজ্যে একমাত্র বিকল্প তৃণমূল কংগ্রেস৷তাই ২০২৩ এর নির্বাচনে বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের৷ তাছাড়া এখন রাজ্যে যে চারটি বিধানসভা এলাকায় উপনির্বাচন হচ্ছে সবগুলোতেই তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জয়ী হবে৷
ছাত্রনেত্রী জয়া দত্ত বলেন, রাজ্যজুড়ে বর্তমান শাসকদল সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে চলেছে৷ তাই এই রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস বদল চায়৷যার মাধ্যমে রাজ্যের প্রতিটি মানুষের উন্নয়নের রাস্তা মসৃণ হবে৷ বাপটু চক্রবর্তী জানান, এই রাজ্যের উপনির্বাচনে মূলত প্রতিযোগিতা হবে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপির মধ্যে৷ উপনির্বাচনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী কে কি করে হারানো যায় সেইভাবে কাজ করে চলেছে৷ কংগ্রেস বা সিপিআইএমকে ভোট দিয়ে ভোটটা নষ্ট না করার জন্য পরামর্শ দেন৷ কারণ রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া অন্য কোন দল বিকল্প হতে পারে না৷ মৃণাল কান্তি দেবনাথ জানান তৃণমূল কংগ্রেস যুবরাজ নগরে সূর্যোদয় ঘটাবে৷ কংগ্রেস বা সিপিএমকে ভোট না দিয়ে যদি কেউ মনে করে বিজেপিকে ভোট দেবে,তবে নিজেদের ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে৷ তাই সকলের প্রতি আহ্বান জানান তৃণমূল কংগ্রেসকে ভোট দেওয়ার জন্য৷ কারণ ত্রিপুরা রাজ্যে একমাত্র বিকল্প তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া আর কেউ হতে পারে না৷