আগরতলা, ১৩ এপ্রিল (হি. স.) : বর্তমানে ভারতের যুব সমাজ ভাগ্যবান নরেন্দ্র মোদির মতো দুরদর্শী, কর্মঠ এবং ধৈর্যশীল ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে। কারণ দেশের প্রচলিত ধ্যান ধারণার বাইরে গিয়ে দেশ এবং নাগরিকের কল্যাণার্থে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সবসময়ই কাজ করে যাচ্ছেন। আজ ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মহারাজা বীরবিক্রম শতবার্ষিকী অডিটোরিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী ও অধ্যাপকদের সাথে পারস্পরিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। অনুষ্ঠানের শুরুতে মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক প্রশান্ত কুমার দাসের ‘বেসিকস অব বাস্কেটবল’ নামের একটি বইয়ের মলাট উন্মোচন করেন।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, মানুষকে জীবনে সফল হতে গেলে তাকে অবশ্যই নিজের পারিপার্শ্বিক অবস্থা, রাজ্য এবং দেশ সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে। তিনি এজন্য সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনাবলী সম্পর্কে সবসময় ওয়াকিবহাল থাকার জন্য সকলকে আহ্বান জানান। কারণ, নতুন প্রজন্ম যদি রাজ্য এবং দেশের বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে সজাগ থাকে তাহলেই দেশ এবং রাজ্য এগুবে। তিনি আরও বলেন, দেশের জাতীয় শিক্ষানীতি ৩৬ বছর পর পরিবর্তন করা হয়েছে। যাতে একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, গুণাবলী, রোজগারের মানসিকতা তৈরির বিভিন্ন ক্ষেত্রের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বর্তমান ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থায় অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের সম্মানজনক পেশার সাথে যুক্ত করার জন্য আগ্রহী হচ্ছেন।তিনি বলেন, ২০১৮ সালের তুলনায় এবারের বাজেট ১১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। যা রাজ্যের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির দিককেই নির্দেশ করে। মুখ্যমন্ত্রী শ্রীদেব আশা প্রকাশ করেন আগামী ৫ বছরে রাজ্যের বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা হবে। বর্তমানে রাজ্যের সাধারণ মানুষ, কৃষক সহ সমস্তস্তরের মানুষের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজ্যের ক্যাপিটেল এক্সপেনডিচার দ্বিগুণ হয়েছে। রাজ্যের উন্নয়নকে সঠিক দিশায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘লক্ষ্য ২০৪৭’ নামে একটি রূপরেখা তৈরি করেছে। যা আগামী প্রজন্মের কাছে আশীর্বাদ স্বরূপ হবে বলে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা থেকে চুরাইবাড়ি চার লেন রোড, আগরতলাতে রিং রোড করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
রাজ্যকে আগামীদিনে গুজরাট রাজ্যের মতো বৈভবশালী রাজ্যে পরিণত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত কেন্দ্রীয় সরকারগুলির আমলে উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অবহেলিত করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার আসার পর উত্তর পূর্বাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এরফলে এই অঞ্চলের উন্নয়নও হচ্ছে দ্রুতগতিতে। রাজ্যে ডেমো ট্রেন, হামসফর, কাঞ্চনজঙ্ঘা, দেওঘর, রাজধানী, জনশতাব্দি এক্সপ্রেস বিনা আন্দোলনেই এই রাজ্যের মানুষ পেয়েছে। যা কেন্দ্র সরকারের সদর্থক মনোভাবকেই প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, কমলাসাগর মন্দির উন্নয়নে সরকার অচিরেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নয়নে অচিরেই ডাক্তার, নার্স, টেকনিশিয়ান নিয়োগ করা হবে। রাজ্যের প্রতিটি গ্রাম পঞ্চায়েতে একটি করে লাইব্রেরি নির্মাণ করা হবে। আগামী ১-২ বছরে রাজ্যের রূপরেখা আমূল পাল্টে যাবে। ছাত্রছাত্রীদের সাথে মতবিনিময়ে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব ছাত্রছাত্রীদের সবসময় সদর্থক মনোভাবাপন্ন, নিজের গুণ সম্পর্কে ওয়াকিবহাল, পুঁথিগত বিদ্যাকে ব্যবহারিক ক্ষেত্রে প্রয়োগ, অল্প বয়সেই রোজগারের মানসিকতা তৈরি সহ গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং দেশপ্রেমী হওয়ার আহ্বান জানান।

