পাথারকান্দি (অসম), ১৮ জানুয়ারি (হি.স.) : বাস্তবে প্রতিফলিত হয়েছে আশঙ্কা৷ করিমগঞ্জ জেলার অন্তর্গত পাথারকান্দি শহরে মুণ্ডমালা ময়দানে চলমান বিবেকানন্দ মেলায় করোনা-বমে আক্রান্ত হয়েছেন একজন মেলাকর্মী, ১৫ জন পুলিশকর্মী এবং স্থানীয় হাসপাতালের এসডিএমও প্রদীপকুমার দে৷ তবে তাঁরা সকলেই গৃহ একান্তবাসে রয়েছেন৷ মেলার দরুন পাথারকান্দিতে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয় জনতা আতঙ্কিত। এর পরও চুটিয়ে মেলা চলছে দেখে সচেতন মহল প্রশাসনের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন।
জানা গেছে, বিবেকানন্দ মেলার সঙ্গে যুক্ত পশ্চিবঙ্গের মুর্শিদাবাদ থেকে আগত জনৈক হাবিবুর রহমান (২৪) নামের এক যুবক পাথারকান্দি হাসপাতালে করোনার ভ্যাকসিন নিতে গিয়েছিলেন৷ ভ্যাকসিন দেওয়ার আগে তাঁর রেপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট (আরএটি) করা হয়৷ আরএটিতে তাঁর কোভিড পজিটিভ ধরা পড়ে। একইভাবে মেলায় কর্তব্যরত স্থানীয় থানার ১৫ জন পুলিশকর্মীকেও কোভিড সংক্রমিত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যে পাথারকান্দির বাসিন্দা ১৪ জন সেনাকর্মীও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে মুণ্ডমালা ময়দানে গত ১২ জানুয়ারি বিবেকানন্দ মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়৷ উদ্বোধনের দিন থেকেই স্থানীয় সচেতন মহলের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন চলমান করোনার তৃতীয় ঢেউ পরিস্থিতিতে মেলা অনুষ্ঠিত করা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করে আসছিলেন।
এদিকে মেলার নামে চুটিয়ে চলছে রমরমা ঝান্ডিমুন্ডা নামের জুয়ার আসরও। জুয়া তথা মেলার সংস্পর্শে এসে মানুষ আরও বেশি সংখ্যায় করোনায় আক্রান্ত হবেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা করোনার তৃতীয় ঢেউয়ের মোকাবিলা করতে ইতিমধ্যে স্কুল বন্ধ করে ভোগালি বিহু তথা মকর সংক্রান্তির অনুষ্ঠান সীমিত আয়োজন করতে বলেছিলেন৷
এছাড়া ভোগালি বিহুর সর্বজনীন অনুষ্ঠান ছাড়াও বর্তমান পরিস্থিতিতে সব সময় ভিড় এড়িয়ে কোভিড প্রটোকল মেনে চলাফেরা করার অনুরোধ করে চলছেন। কিন্তু পাথারকান্দি মেলার ক্ষেত্রে শুরু থেকেই বেপরোয়া প্রশাসন। ফলে এই মেলার মাধ্যমে কোভিড-১৯ বিতরণ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অনেকে।
এ প্রসঙ্গে ছাত্রনেতা বদরুল হক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, মেলার সংস্পর্শে যে বা যাঁরা এসেছেন, তাঁরা যেন নিজে থেকে করোনা টেস্ট করিয়ে নেন। এছাড়া প্রত্যেক মেলাকর্মীকে করোনা টেস্টের আবেদন জানান তিনি। বদুরুলের কথায়, গত দুদিনে কোভিড শনাক্ত এ সব ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে নতুন আরও কতজন করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন তার সঠিক হিসাব পাওয়া মুশকিল। এখনই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলে পরে আফশোস করারও সুযোগ থাকবে না। আর এ সবের দায়ভার বর্তাবে জেলা প্রশাসনের ওপর। তাই অতিমারি করোনার চেইন ভাঙতে চলমান মেলাকে শীঘ্র বন্ধ করতে তিনি জেলাশাসক মৃদুলকুমার যাদবের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ছাত্রনেতা বদরুল হক।

