নয়াদিল্লি, ১৭ জানুয়ারি (হি.স.): কত্থকের ‘মহারাজা’ আর নেই। হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হয়েছেন কত্থকের কিংবদন্তি শিল্পী পণ্ডিত বিরজু মহারাজ। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। পণ্ডিত বিরজু মহারাজের নাতনি রাগিনী মহারাজ জানিয়েছেন, “বিগত কয়েক মাস ধরে তাঁর চিকিৎসা চলছিল, রবিবার রাত ১২.১৫-১২.৩০ মিনিটের মধ্যে আচমকাই শ্বাসকষ্টের সমস্যা হয় তাঁর, ১০ মিনিটের মধ্যেই তাঁকে আমরা হাসপাতালে নিয়ে যাই, কিন্তু তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”
একাধারে নাচ, তবলা এবং কণ্ঠসঙ্গীতে সমান পারদর্শী ছিলেন বিরজু মহারাজ। ছবিও আঁকতেন। রবিবারর রাতে নাতির সঙ্গে খেলছিলেন। তখনই হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হন তিনি। পরিবার সূত্রের খবর, সম্প্রতি তাঁর কিডনির অসুখ ধরা পড়েছিল, ডায়ালিসিস চলছিল। কত্থকের ‘মহারাজা’ পরিবারে জন্ম বিরজুর। সাত পুরুষ ধরে তাঁদের পরিবারে কত্থক নাচের চর্চা। তাঁর দুই কাকা শম্ভু মহারাজ এবং লচ্ছু মহারাজ ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী। বাবা অচ্চন মহারাজই ছিলেন বিরজুর গুরু। শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন, তেমনই বহু ছবিতে কোরিওগ্রাফারের কাজও করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’-র কোরিওগ্রাফি। ছবিতে দুটো গানের কোরিওগ্রাফি করেন। তার মধ্যে একটা ছিল ‘কানহা মে তোসে হারি’। দেশ-বিদেশে বহু অনুষ্ঠান করেছেন বিরজু মহারাজ। রয়েছে প্রচুর ছাত্রছাত্রী।

