Punishment : দুই ছাত্র নিগ্রহের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবী জানালেন বিরোধী দলনেতা

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৬ জানুয়ারি৷৷ দুই ছাত্র নিগ্রহের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবী জানালেন বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার৷ এক প্রেস বিবৃতিতে তিনি বলেন, গত ১৩ই জানুয়ারি সন্ধ্যায় আগরতলা শহরের বুকে সার্কিট হাউসের সামনে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় যাওয়ার সময় আগে থেকেই একটি গাড়ি বিকল হয়ে রাস্তার পাশে আটকে পড়েছিল৷ এই গাড়ির যাত্রী ছিলেন ইকফাই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন ছাত্র৷ এঁদের একজন এঞ্জেল রিয়াং এবং অপরজন অভিজিৎ দেববর্মা৷ এই দুই ছাত্রকে ট্রাফিক পুলিশ এবং এন সি সি থানার পুলিশ ধরে থানায় নিয়ে দৈহিকভাবে নির্যাতন করে, অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে৷


অথচ আশ্চযর্ে্যর বিষয় হচ্ছে এই ছাত্র দু’জনের দোষ বা ত্রুটি ছিল বলে কোন অভিযোগ নেই৷ গাড়ি বিকল হয়ে পরার জন্য তাদের কোনও দোষ ছিল না৷ সবর্োপরি তাদের জানাও ছিল না মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় এই সড়ক দিয়ে আসছে৷ আসলেও তৎক্ষনাৎ তাদের গাড়ি সারাই করার মতো কোন ব্যবস্থাও ছিল না৷ তাদের দিক থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়ের চলার পথে বিঘ্ন সৃষ্টি করার কোনও অভিযোগ নেই৷ কিন্তু তারপরও এই দুই ছাত্রকে এভাবে নির্যাতনের ঘটনা অভাবনীয় ও অত্যন্ত নিন্দাজনক৷ এ শুধু পুলিশের বাড়াবাড়িই নয় — এ হচ্ছে ক্ষমতার অপব্যবহার৷ পুলিশের এই অনভিপ্রেত অমার্জনীয় অপরাধের তদন্তক্রমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে৷ এগত ৪৪ মাসের মধ্যে বামপন্থী আন্দোলনের ২১ জন খুন হয়ে যাওয়া শহিদের একটি খুনেরওকিনারা পুলিশ এখনও করে উঠতে পারলো না৷ এই সময়ে রাধাকিশোরপুর থানা এবং পশ্চিম আগরতলা থানার লকআপে অস্বাভাবিকভাবে দুই যুবকের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট, মৃত্যুর কারণ, প্রকৃত দোষীদের চিহ্ণিত করে শাস্তির ব্যবস্থানেওয়া হয়েছে কিনা ত্রিপুরার মানুষ জানেন না৷পুলিশের সামনেই বর্তমান সরকারের শাসনে অনুষ্ঠিত প্রতিটি নির্বাচন প্রহসনে পরিণত হয়েছে৷


প্রকৃত ভোটদাতাদের বড় অংশের ভোট দেবার অধিকার হরণ করে, ছাপ্পা ভোটের মাধ্যমে, ভোট জালিয়াতি করে শাসক বি জে পি’র হাস্যকর জয় নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রকৃতপক্ষে দুর্বত্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সহায়তা করেছে৷ যার সর্বশেষ নিদর্শন নগর সংস্থার নির্বাচন৷ গত ৮ই জানুয়ারি রাতে পশ্চিম থানায় চারজন এল জি বি টি নাগরিকের সাথে সংশ্লিষ্ঠ পুলিশকর্তৃপক্ষের অমার্জনীয় সভ্যতা বিরোধী আচরণ ত্রিপুরার সচেতন নাগরিকদের স্তম্ভিত করেছে৷


এই সবকিছু থেকে এটা পরিস্কার পুলিশ তাদের আইনানুগ দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে প্রতিপালনে বারবার ব্যর্থতা দেখাচ্ছে৷ পুলিশ ব্যস্ত শাসক দলকে খুশি রাখতে৷ পরিণতিতে রাজ্যের আইনের শাসনের অস্তিত্ব বলে কিছু অবশিষ্ঠ থাকছে না৷ এর জন্য দায়ী এই সরকার৷ সরকারের স্বরাষ্ট্র দপ্তর৷ স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী এর দায়ভার অস্বীকার করতে পারেন না৷