করিমগঞ্জে ১১ থানা-দালাল গ্রেফতার, আাদালতের নির্দেশে ঠাঁই জেল হেফাজত

করিমগঞ্জ (অসম), ১৭ জানুয়ারি (হি.স.) : সমগ্র রাজ্যের সঙ্গে সীমান্ত জেলা করিমগঞ্জেও থানা-দালালদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। করিমগঞ্জ জেলার বিভিন্ন থানায় দালালির অভিযোগে শনি থেকে রবিবার পর্যন্ত ব্যাপক অভিযান চালিয়ে এই সাফল্য পুলিশ পেয়ছে।

ডিএসপি (সদর) গীতার্থ শর্মা জানান, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এ পর্যন্ত এগারো জনকে আটক করা হয়েছে। থানার আশপাশে বসে অভিযোগকারীদের হয়ে এজাহার লেখার পাশাপাশি এদের বিরুদ্ধে দালালিতে জড়িত থাকার নির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। আর‌ও বেশ কয়েকজন পুলিশের রাডারে রয়েছেন। খুব শীঘ্র বাকিদেরও আটক করা হবে, জানান ডিএসপি সদর গীতার্থ শর্মা।
করিমগঞ্জ জেলায় যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তারা করিমগঞ্জের আব্দুল আহাদ চৌধুরী, অতুল মালাকার। নিলামবাজারের জয়নুল হক, বলাই মিয়াঁ। বদরপুরের নির্মল চক্রবর্তী, ফারুক আহমেদ, আজিম উদ্দিন। কালিগঞ্জের সুপ্রভাত দাস। পাথারকান্দির জিলুল হক, আব্দুল বাসিত।
প্রসঙ্গত, অতিসম্প্রতি গুয়াহাটির শঙ্করদেব কলাক্ষেত্রে এক অনুষ্ঠানে থানার দালালদের সতর্ক করে দিয়েছিলেন রাজ্যোর মুখ্যেমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শর্মা। রাজ্যো থেকে দালালরাজ সমূলে উৎখাত করতে এদিনের অনুষ্ঠানে হুঙ্কার দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী ড. শর্মা। এর পর থেকেই থানার আশপাশে বসে এজাহার লেখকরা অন্যঠত্র চলে যান। এত সবের পর‌ও দালালদের দাপট কমেনি। সাধারণ জনগণকে এই সব এজাহার লেখকদের খপ্পরে পড়ে প্রতিদিন‌ই নানা ভাবে হেনেস্তার শিকার হতে হয়, খোয়াতে হয় মোটা অঙ্কের টাকা।
অবশেষে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশে গোটা রাজ্যে পুলিশ দালালদের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে। তবে থানায় দালালদের আশকারা প্রদানকারী পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে কী ব্যেবস্থা নেওয়া হবে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে সচেতন মহলে। অনেকে-তো এমন‌ও বলছেন, পুলিশি আশকারাতেই দালালরাজ কায়েম হয়েছিল। কারণ পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা না পেলে থানায় গিয়ে দালালি করার সাহস দেখানো সহজ কাজ ছিল না। যাঁদের আশকারায় দালালরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল, তাঁদের বিরুদ্ধে সরকার কী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে? সচেতন জনমনে এই প্রশ্ন‌ই ঘোরপাক খাচ্ছে। থানার দালালিতে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে রবিবার সন্ধ্যায় মুখ্য বিচারবাভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে সোপর্দ করা হলে, আদালতের নির্দেশে ধৃতদের জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।