সিউড়ি, ৯ জানুয়ারি (হি. স.) ঊর্ধ্বমুখী করোনা সংক্রমণের বাড়বাড়ন্ত আটকাতে বীরভূমের ছয়টি পৌরসভা ইতিমধ্যেই আংশিক লকডাউনের পথ বেছে নিয়েছে। করোনা রোধে জেলার পৌর এলাকায় আংশিক লকডাউন মেনে চলার জন্য অনুরোধ করলেন অনুব্রত মণ্ডল।
শনিবার প্রথম আংশিক লকডাউনের নির্দেশিকা জারি করে বোলপুর পৌরসভা। এর পরেই আংশিক লকডাউন কথা ঘোষণা করে বীরভূমের জেলা সদর, সিউড়ি পৌরসভা। এর কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই একের পর এক দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া একই নির্দেশিকা জারি করে।রবিবার সেই একই পথে হাঁটল রামপুরহাট এবং নলহাটি পৌরসভা। অর্থাৎ জেলার ছয় টি পৌর শহর জুড়ে আংশিক লকডাউনের নির্দেশিকা জারি হল। ইতিমধ্যেই রবিবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হচ্ছে বোলপুর শহরে।
রবিবার রামপুরহাট পৌরসভার তরফ থেকে আংশিক লকডাউনের পরিপ্রেক্ষিতে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হয়, “রামপুরহাট শহর ও সংলগ্ন এলাকায় ক্রমবর্ধমান করোনা বৃদ্ধির কারণে আজ অর্থাৎ ৯ জানুয়ারি রবিবার থেকে ১৫ জানুয়ারি শনিবার পর্যন্ত রামপুরহাট পৌরসভার অন্তর্গত সমস্ত দোকান, হাট, বাজার, সকাল ৬টা থেকে বেলা ৩টে পর্যন্ত খোলা থাকবে। বেলা ৩টের পরে শুধুমাত্র জরুরী পরিষেবা ও ওষুধের দোকান একমাত্র খোলা থাকবে।”
এর পাশাপাশি রামপুরহাট পৌরসভার প্রশাসক মীনাক্ষী ভকত জানিয়েছেন, “রামপুরহাট পৌরসভার তরফ থেকে এলাকায় স্যানিটাইজ কাজ শুরু করা হয়েছে। সংক্রমণ যাতে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় তার দিকে তাকিয়েই এই সকল পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও পৌরসভার তরফ থেকে অক্সিজেন সহ অন্যান্য জরুরী প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ বজায় থাকবে।”
একইভাবে আংশিক লকডাউনের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে নলহাটি পৌরসভার তরফ থেকেও। নলহাটি পৌরসভাতেও রবিবার থেকে শুরু হচ্ছে এই আংশিক লকডাউন। এই পৌরসভা এলাকায় এই আংশিক লকডাউন চলবে দুপুর তিনটে থেকে পরদিন সকাল ছয়টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময় জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দোকানপাট এবং ওষুধের দোকান ছাড়া অন্য কোন দোকান খোলা থাকবে না।
দুবরাজপুর ও সাঁইথিয়া পৌরসভায় আগামীকাল অর্থাৎ ১০ জানুয়ারি সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে এই আংশিক লকডাউন। এই দুটি পৌরসভায় আংশিক লকডাউন চলবে দুপুর দুটো থেকে। আংশিক লকডাউন চলাকালীন ওষুধ এবং জরুরী পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত দোকানপাট ছাড়া বন্ধ থাকবে সমস্ত রকম দোকান এবং বাজার ঘাট।অন্যদিকে একইভাবে তারাপীঠের সমস্ত হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংক্রমণ কমানোর জন্য। বীরভূম জেলা প্রশাসনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তারাপীঠে সমস্ত হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তারাপীঠে এই হোটেল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে এই রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে।
এদিন সাংবাদিক সম্মেলন করে করোনা রোধে সকল কে অবশ্যই মাস্ক পড়ার অনুরোধ জানালেন অনুব্রত। পাশাপাশি তিনি বলেন, “জানি, আংশিক লকডাউনে সকলের অসুবিধা হবে তবুও জেলা জুড়ে যে ভাবে করোনা বৃদ্ধি পেয়েছে তাতে বাধ্য হয়ে ই সকলের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকলে সজাগ হোন।”

