পূর্বতন সরকারের আমলে উন্নয়নে চাকায় ব্রেক লেগেছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন, কটাক্ষ ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর

আগরতলা, ৫ জানুয়ারি(হি. স.) : প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গতকাল আগরতলায় স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। আজ সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ করেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিরোধী দলনেতা মানিক সরকার। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী প্ররোচনামূলক এবং অসত্য তথ্য দিয়ে দাবি করেছেন পূর্বতন সরকারের আমলে উন্নয়নের চাকায় ব্রেক লেগেছিল। ত্রিপুরায় ডাবল ইঞ্জিনের সরকার প্রতিষ্ঠা হওয়ায় পরই উন্নয়নে গতি ধরেছে।


তাঁর কটাক্ষ, ত্রিপুরায় আকাশপথে, রেলপথে এবং সড়কপথে যোগাযোগের ইতিহাস জানেননা প্রধানমন্ত্রী। বামফ্রন্ট জমানায় সরকারী স্তরে কাজ এবং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, দাবি করেন তিনি। তথ্য তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকার ত্রিপুরায় বিমান বৃদ্ধির দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। তবেই, ধাপে ধাপে কেন্দ্র ত্রিপুরার দাবিতে সে দিয়েছে। সাথে তিনি যোগ করেন, টিনের ছাদ দেওয়া ঘর প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা থেকে বাদ যাওয়ায় শুরুতেই প্রতিবাদ করেছিল বামফ্রন্ট সরকার।


তিনি বলেন, বামফ্রন্ট সরকারের চাপের ফলে ত্রিপুরায় ক্রমান্বয়ে বিমান বেড়েছে, সাথে বেড়েছে যাত্রী সংখ্যা। এরপরই বিমান বন্দর সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক মানে রুপান্তরের দাবি বামফ্রন্ট সরকারই জানিয়েছিল। তাঁর দাবি, একাধিকবার চিঠি পাঠানোর পর অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার বিমান বন্দর সম্প্রসারণে এবং আন্তর্জাতিক মানে রুপান্তরে সম্মতি দেয় এবং জমি অধিগ্রহণ বাবদ ত্রিপুরা সরকার ৩৫ কোটি টাকা খরচ করে কেন্দ্রের হাতে জমি তুলে দেওয়া হয়। তিনি জোর গলায় বলেন, বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণ বামফ্রন্ট জমানায় শুরু হয়েছিল।


মানিক সরকার আজ প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ত্রিপুরার ইতিহাস জেনে মানুষের সম্মুখে তুলে ধরার আর্জি জানান। যাঁরা ওই তথ্য প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন তিনি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীকে বিভ্রান্ত করেছেন, দাবি করেন তিনি। এদিন তিনি সাফ জানান, ইউপিই জমানায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে ত্রিপুরার সাথে রেল সংযোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ত্রিপুরার সাথে বানিজ্যের সম্প্রসারণে এবং অর্থনৈতিক ভিত মজবুত করার জন্য সমস্ত রকম সহায়তার আশ্বাস দিয়েছিলেন। তার ভিত্তিতেই আগরতলা-আখাউড়া রেল সংযোগ স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।


তাঁর আরো দাবি, ত্রিপুরায় জাতীয় সড়ক সম্প্রসারনেও সোচ্চার হয়েছিল বামফ্রন্ট সরকার। কেন্দ্রীয় ভূতল সড়ক পরিবহণ মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গডকরির ত্রিপুরা সফরে জাতীয় সড়কের সংখ্যা বৃদ্ধির জোরালো দাবি জানানো হয়েছিল। সাথে তিনি যোগ করেন, দেশের তৃতীয় ইন্টারনেট গেটওয়ে ত্রিপুরায় স্থাপিত হয়েছিল বামফ্রন্ট জমানায়। বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে ১০জিবি ইন্টারনেট সংযোগ ত্রিপুরায় স্থাপিত হয়েছিল। অথচ, বামফ্রন্ট জমানায় কোন উন্নয়ন হয়নি বেফাস বলে গেলেন প্রধানমন্ত্রী, তীব্র কটাক্ষের সুরে বলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী।