আগরতলা, ২০ জুলাই : পারিবারিক কলহের জেরে রড দিয়ে স্ত্রীর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে অবশেষে ফাঁসিতে আত্মঘাতী হলো স্বামী। ঘটনা কদমতলা থানাধীন হাঁপাই টিল্লা এলাকায়। পারিবারিক কলহের জেরে উত্তর ত্রিপুরা জেলার কদমতলা থানাধীন হাপাই টিলা এলাকায় এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে রড দিয়ে আঘাত করে গুরুতরভাবে আহত করে। গুরুতর আহত স্ত্রীর নাম পমপি শর্মা। বর্তমানে শিলচর হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। অভিযুক্ত স্বামীর নাম গুরু প্রসাদ শর্মা। অবশেষে অভিযুক্ত স্বামী গুরু প্রসাদ শর্মা ফাসিতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।
ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, উত্তর জেলার কদমতলা থানাধীন দক্ষিণ কদমতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নং ওয়ার্ডের হাঁপাই টিল্লার বাসিন্দা গুরু প্রসাদ শর্মা ভালোবেসে পাশের গ্রামের পম্পি শর্মাকে বিয়ে করে। বিয়ের পর তাদের সংসার ছিল সুখের। স্বামী গুরু প্রসাদ শর্মা পেশায় ছোট একটি দোকানের মালিক।বর্তমানে তাদের আট বছরের একটি পুত্র সন্তান ও তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।কিন্তু কয়েক বছর যাবৎ সংসারে অভাব-অনটন নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ লেগেই আছে। মঙ্গলবার কাকভোরে স্বামী গুরু প্রসাদ শর্মা স্ত্রী পম্পি শর্মার উপর কলহের জেরে রাগান্বিত হয়ে লোহার রড দিয়ে তার মাথায় সজোরে আঘাত করে। সাথে সাথে রক্তাক্ত হয়ে ঘরের মেঝেতে পম্পি লুটিয়ে পড়ে। স্ত্রীর উপর প্রাণঘাতী আক্রমণ চালিয়ে স্বামী গুরু প্রসাদ শর্মা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তড়িঘড়ি পরিবারের লোকজন দমকল অফিসে ফোন করে তাদের সহযোগী তায় আহত অবহেলাকে উদ্ধার করে কদমতলা সামাজিক হাসপাতালে নিয়ে যান। গুরুতর অবস্থায় পম্পি শর্মাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক জেলা হাসপাতালে রেফার করেন।পরবর্তীতে জেলা হাসপাতাল থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিলচর নিয়ে যাওয়া হয় পম্পি শর্মাকে।কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন ,তার মাথায় গুরুতর আঘাত করার ফলে অধিকাংশ জায়গায় ফেঁটে গিয়েছে। অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসক।
এদিকে স্ত্রীকে প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে ঘর থেকে পালিয়ে গিয়ে স্বামী গুরু প্রসাদ শর্মা বাড়ির সামনের নিজ দোকান ঘরে ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করে।মৃত গুরু প্রসাদ শর্মার ছেলে বাবার নড়াচড়া না পেয়ে দোকান ঘরে গিয়ে দেখতে পায় গলায় গামছা বেঁধে ফাঁসিতে ঝুলে রয়েছে তার বাবা।তখন ছেলে চিৎকার চেচামেচি শুরু করলে ছুটে আসেন আশপাশের লোকজন। খবর দেওয়া হয় কদমতলা থানায়।থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কদমতলা হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের পর গুরু প্রসাদ শর্মার মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় কদমতলা থানার পুলিশ।
অপরদিকে বাবা ফাঁসি লাগিয়ে আত্মহত্যা ও মা গুরুতর অবস্থায় বহিঃ রাজ্যে চিকিৎসাধীন হওয়াতে নাবালক শিশু দুটি অনাথ হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি এলাকা জুড়ে জুড়ালো দাবি উঠছে,এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত করুক পুলিশ প্রশাসন।পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিলেও এখন পর্যন্ত স্ত্রীর উপর প্রাণঘাতী হামলা ও স্বামীর আত্মঘাতীর রহস্য উন্মোচন করতে পারেনি পুলিশ।তবে কাকভোরে একটি তরতাজা প্রাণ চলে যাওয়াতে গোটা দক্ষিণ কদমতলা এলাকা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

