কলকাতা, ২২ মে (হি. স.) : প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যে দুর্নীতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে রাজ্য বিজেপি। সেই কারণ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বাংলার কৃষকদের আপাতত পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করার আর্জি জানিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। উপভোক্তাদের সঠিক তালিকা তৈরির জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একটি দল পাঠানোর দাবিও জানিয়েছেন দিলীপবাবু। কংগ্রেসের তরফে অবশ্য এই ভাবনার কড়া প্রতিবাদ করা হয়েছে।
সম্প্রতি মোদীকে পাঠানো চিঠিতে দিলীপবাবু কী কী ধরনের দূর্নীতি হতে পারে তার ৪টি আশঙ্কা জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি মোদীকে ৬টি পরামর্শও দিয়েছেন দিলীপবাবু। সেই পরামর্শেই বলা হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো কৃষকদের তালিকা যেন ভাল করে পরীক্ষা করা হয় কেন্দ্রের তরফে। আর সেটা না হওয়া পর্যন্ত বাংলায় পরের দফার টাকা পাঠানো বন্ধ থাকুক।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকরের ক্ষেত্রে রাজ্যে নানা দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ তুলেছিল। একই সঙ্গে বিজেপি-র ঘোষণা ছিল ক্ষমতায় এলে কিসান সম্মান প্রকল্প চালু করা হবে। তবে নির্বাচনের আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই উদ্যোগ নেওয়ায় চলতি মাস থেকেই রাজ্যে এই প্রকল্প চালু হয়েছে। প্রথম দফার টাকা পেয়েছেন প্রথম দফায় নথিভূক্ত বাংলার কৃষকরা। মোদীকে পাঠানো চিঠিতে দিলীপবাবু দাবি করেছেন, রাজ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ২৩ লাখ কৃষক নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করলেও প্রথম দফার টাকা পেয়েছেন ৭ লাখ চাষি। বাকি কৃষকদের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি তাঁর। এ ছাড়াও নিজের চিঠিতে ‘সিন্ডিকেট রাজ’, ‘কাটমানি’ প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন দিলীপ।
কংগ্রেস সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য রাজ্য বিজেপি সভাপতির এই চিঠির প্রতিবাদ করেছেন। ‘হিন্দুস্থান সমাচার’-কে তিনি শনিবার দুপুরে বলেন, “চাষিদের এই সহায়তা বন্ধ করার কোনও যুক্তি নেই। এই টাকা বিলি দেশের অন্য রাজ্যে যেভাবে হচ্ছে, এ রাজ্যেও নিশ্চয়ই তা অনুসরণ করা হচ্ছে। এখানে অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকে বাড়তি নজর রাখার আবেদন করতে পারেন দিলীপবাবু। কিন্তু টাকা বন্ধ করা অযৌক্তিক।“ রাজ্যের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানও এই প্রতিবেদককে বলেন, “দুর্নীতি হতে পারে ভেবে চাষিদের টাকা বন্ধ করে দেওয়ার দাবি ভিত্তিহীন। দুর্নীতি সন্দেহ করলে তার নিদর্শন দাখিল করে বিজেপি তদন্তের দাবি করুক

