রাজ্যের পৃথক স্থানে যান দূর্ঘটনায় হত দুই, আহত দুই

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা/উদয়পুর, ৮ ফেব্রুয়ারি৷৷ রাজ্যে পথদুর্ঘটনা দিনের পর দিন বৃদ্ধি পেয়ে চলেছে৷ রানির বাজার এর মোহনপুর, সিধাই এর খোয়াই চৌমুহনী রাজধানী আগরতলা শহর সংলগ্ণ বিদ্যাসাগর এবং উদয়পুরে চারটি পৃথক পথদুর্ঘটনায় দুই জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে৷ অপর দুজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছে৷ পথ দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন দপ্তর এবং ট্রাফিক দপ্তর এর তরফ থেকে নানা সচেতনতামূলক কর্মসূচি গ্রহণ করা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে৷


রাজ্যে প্রতিদিন কোন না কোন স্থানে প্রথম দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে৷ মোহনপুর খোয়াই এবং যোগেন্দ্রনগর এলাকায় তিনটি পৃথক দুর্ঘটনায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে৷ঘটনার বিবরণে জানা যায় তেলিয়ামুড়া থেকে বাইক নিয়ে রানীর বাজারের ফিরছিলেন মন্টু দেবনাথ নামে এক যুবক৷রানির বাজার এলাকার বাসিন্দা মিন্টু দেবনাথ মোহনপুর এলাকায় এসে পৌঁছলে বাইক নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন৷ দুর্ঘটনার পর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়৷ জিব হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়৷ তার মৃত্যুর খবর পেয়ে আত্মীয়-পরিজন জিবি হাসপাতালে ছুটে আসেন৷ ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহটি পরিবারের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷

রানির বাজার থানার পুলিশ এ ব্যাপারে একটি মামলা গ্রহণ করে এ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷সোমবার সাতসকালে বিদ্যাসাগর থেকে যোগেন্দ্রনগর যাওয়ার পথে একটি ট্রিপার গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে৷ দুর্ঘটনার পর চালক পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে৷ স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন৷জানা যায় রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে ট্রিপার গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়৷আগরতলা মোহনপুর খোয়াই সড়কের খোয়াই চৌমুহনী এলাকায় একটি রাবার সিড পরিবাহী গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়৷ তাতে গাড়ির চালক সহচালাক গুরুতর ভাবে আহত হয়৷ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ এবং দমকল বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান৷ সেখান থেকে আহত দুজনকে উদ্ধার করে মোহনপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়৷পুলিশ তিনটি ক্ষেত্রেই মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ চালকদের অসাবধানতার কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে৷


এদিকে, সড়ক নিরাপত্তা সপ্তাহ পালনের দিনেই উদয়পুরে বাইক দুর্ঘটনায় মৃত এক ব্যক্তি৷ মৃত ব্যক্তির নাম হিমাংশু নন্দি, পিতা হরেকৃষ্ণ নন্দী, বাড়ি রাধাকিশোরপুর থানার অন্তর্গত বদর মোকাম এলাকায় ৷ সংবাদে প্রকাশ, হিমাংশু নন্দী প্রতিদিনের মত কর্মস্থল শান্তি বাজার (আইওসির ম্যানেজার) থেকে কর্তব্য সম্পাদন করে উদয়পুরে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে পেরাতিয়া ফরেস্ট গেট সংলগ্ণ এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়েন ৷ সূত্র মারফৎ জানা যায় উনি বাইকে আসার সময় একটি বোলেরো গাড়ির সাথে সংঘর্ষে হিমাংশু বাবু ছিটকে গিয়ে পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় থাকা একটি লড়িতে ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যান৷ উদয়পুরের দমকল কর্মীরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে হিমাংশু বাবুকে উদ্ধার করে তেপানিয়াস্থিত গোমতী জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়, এবং সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক হিমাংশু বাবুকে মৃত বলে ঘোষনা করেন৷


মৃত হিমাংশু নন্দীর নিথর দেহ তেপানিয়া জেলা হাসপাতালের মর্গে শায়িত আছে৷ আগামী কাল পোস্ট মর্টমের পর আত্মীয় পরিজনের হাতে তুলে দেওয়া হবে৷ গর্জি আউট পোষ্টের পুলিশ ও আর কে পুর থানার পুলিশ ঘাতক গাড়ির খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছেন৷উল্লেখ্য গত বিশ জানুয়ারি একই থানার অন্তর্গত উদয়পুর খিলপাড়া এলাকার সাগর দে-কে দোকান থেকে বাড়ি আসার পথে ঘাতক বাইক চালক রূপক মজুমদার দ্বারা মৃত্যুর পর , চারদিনের মাথায় পথ অবরোধ করেন ঘাতক বাইক চালক রূপক মজুমদারকে গ্রেপ্তারের দাবিতে৷ কিন্তু উদয়পুরের মহকুমা পুলিশ আধিকারিক ধ্রুব নাথ চবিবশ ঘণ্টার মধ্যে বাইক চালক রূপক মজুমদারকে গ্রেপ্তার করবেন বলে অবরোধ কারীদের কথা দিলেও আজ ১৭ দিনেও ঘাতক বাইক চালক রূপক মজুমদারকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি৷ এলাকায় খোভ বিরাজ করছে৷মৃত হিমাংশু নন্দীর একমাত্র মেয়ে উদয়পুর বিবেকানন্দ বিদ্যা পীঠের দশম শ্রেণীর ছাত্রী৷ হিমাংশু বাবুর মৃত্যুতে বদরমোকাম সহ গোটা উদয়পুরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷