করোনায় ছাত্রছাত্রীদের ক্ষতির পরিমাণ জানতে অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন করবে সরকার

আগরতলা, ৬ ফেব্রুয়ারি (হি.স.)৷৷ করোনাকালে ত্রিপুরায় ছাত্রছাত্রীদের পড়াশুনায় ক্ষতির পরিমাণ জানতে সমীক্ষা করবে রাজ্য সরকার৷ তৃতীয় শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী মূল্যায়ন হবে৷ শনিবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এই খবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ তাঁর কথায়, করোনা-র প্রভাবে সমগ্র বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ জানতে চাইছে৷ কিন্তু আমরা ভবিষ্যত প্রজন্মের পড়াশুনায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তার মূল্যায়ন জরুরি বলে মনে করেছি৷


এদিন তিনি বলেন, ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর নতুন দিশা প্রকল্পের মাধ্যমে জানতে পেরেছিলাম তৃতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৪৩.২২ শতাংশ পড়তে জানে৷ সংখ্যা জ্ঞান ছিল ১৯.০২ শতাংশের৷ কিন্ত এখন পড়তে জানে ৯৩.৬৩ শতাংশ এবং সংখ্যা জ্ঞান রয়েছে ৮৮.২৭ শতাংশ ছাত্রছাত্রীর৷
মন্ত্রীর কথায়, পঠন-পাঠনে করোনা-র প্রকোপে ভীষণ ক্ষতি হয়েছে৷ সমগ্র ব্যবস্থা নড়বড়ে হয়ে গেছে৷ ফলে, বিদ্যালয়গুলি পর্যায়ক্রমে খুলে দেওয়া হচ্ছে৷ তিনি জানান, নবম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় ২৮ ডিসেম্বর, পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি ৪ জানুয়ারি, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি ১৮ জানুয়ারি থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিদ্যালয়ে পঠন-পাঠন শুরু করার চিন্তাভাবনা চলছে৷


তিনি বলেন, ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ তাঁর কথায়, করোনাকালে ত্রিপুরায় ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা জানতেই হবে৷ তাই, পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছেঊ তাঁর বক্তব্য, দেশের সাথে গোটা বিশ্ব ভাবছে করোনা-র প্রকোপে অর্থনৈতিক ক্ষতি কতটা হয়েছে৷ কিন্তু আমরা চাইছি শিক্ষায় কেমন ক্ষতি হয়েছে তার সমীক্ষা হওয়া খুবই প্রয়োজন৷ সে মোতাবেক ১৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি হবে মপ আপ রাউন্ড৷
তিনি জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে শিক্ষক-অভিভাবক বৈঠক৷ তেমনি ২৮ ফেব্রুয়ারি হবে মপ আপ রাউন্ড৷ এর পর ৩ থেকে ৯ মার্চ হবে সমীক্ষা৷ ২৮ মার্চ ফলাফল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করবে শিক্ষা দফতর৷ তিনি আরও জানান, ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে পরীক্ষা৷