নিজস্ব প্রতিনিধি, কৈলাসহর, ১৫ ডিসেম্বর৷৷ বিকল্প জাতীয় সড়ক নির্মাণে কৈলাসহরের কামরাংগাবাড়ি গ্রামের গ্রামবাসীরা প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং এই বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন প্রাক্তন বিধায়ক বিরজিত সিনহা৷ প্রাক্তন বিধায়ক বিরজিত সিনহা বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো প্রশাসনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, গ্রামবাসীদের উপযুক্ত জমির মূল্য সহ ক্ষতিপুরন দিয়ে প্রত্যেককে সরকারি ঘর প্রদান করার দাবী করেন৷ এই দাবী পুরন না হওয়া অব্দি এই এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়কের নির্মাণ কাজ আজ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন প্রাক্তন বিধায়ক বিরজিত সিনহা৷
উল্লেখ্য, বিকল্প জাতীয় সড়কটি উত্তর জেলার কুর্তি থেকে শুরু হয়ে ঊনকোটি জেলার জেলাসদর কৈলাসহরের ভগবান নগর, চিরাকুটি, কীর্তন থলী, কামরাংগাবাড়ি, ছৈনতল হয়ে কমলপুর, খোয়াই হয়ে তেলিয়ামুড়া যাবে৷ গত এক সপ্তাহ ধরে কৈলাসহরের ভগবান নগর, চিরাকুটি, কীর্তন থলী এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়কের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের বাড়ি ঘর গাছ পালা ইত্যাদি ভেংগে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে৷ কিন্তু বাঁধ সাজে কামরাংগাবাড়ি এলাকায়৷ কৈলাসহরের অন্যান্য এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়কের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেসব মানুষের জমি সহ গাছপালা বাড়ি ঘর ভেংগে ফেলে যত পরিমান টাকা দেওয়া হচ্ছে সে তুলনায় অর্ধেকেরও কম টাকা দেওয়া হচ্ছে কামরাংগাবাড়ি এলাকার মানুষদের৷ এনিয়ে গত তিন দিন ধরে কৈলাসহরের কামরাংগাবাড়ি এলাকায় গ্রামবাসীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে৷
কৈলাসহরের কামরাংগাবাড়ি গ্রামের এই খবর শোনে মঙ্গলবার দুপুরে কামরাংগাবাড়ি গ্রামে গিয়ে গ্রামের বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের পাশে দাঁড়ালেন কৈলাসহরের প্রাক্তন বিধায়ক বিরজিত সিনহা৷ বিরজিত সিনহা বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের সংগে পুরো গ্রাম ঘুরে দেখে গ্রামে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসীদের নিয়ে এক বৈঠকও করেন৷ বৈঠক শেষে প্রাক্তন বিধায়ক বিরজিত সিনহা বলেন, গ্রামবাসীদের প্রাপ্য এবং ন্যায্য ক্ষতিপুরন না দিয়ে এই এলাকায় কাজ করানো যাবে না বলে প্রকাশ্যেই জানান৷ এমনকি আজ থেকে এই এলাকায় বিকল্প জাতীয় সড়কের কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন বিরজিত সিনহা৷ উনি প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে বলেন, কৈলাসহরের অন্যান্য জায়গায় একই কাজের জন্য অর্থাৎ বিকল্প জাতীয় সড়কের জন্য জমির মূল্য প্রতি কানি ত্রিশ লক্ষ টাকা করে দিলেও কামরাংগাবাড়ি গ্রামের মানুষদের তিন লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে বলে প্রশাসনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেন৷ এছাড়াও বিরজিত সিনহা বলেন, প্রশাসনের তরফে অগ্রীম কোনো ধরনের নোটিশ গ্রামবাসীদের দেওয়া হয়নি