আগরতলা, ৯ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ দিল্লি থেকে সমাবেশে জনতার রায় নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নেই বলে নির্দেশ আসার পর দলীয় বিধায়কদের সাথে বৈঠকে বসেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ আজ বুধবার সন্ধ্যা থেকে সরকারি আবাসনে তিনি মন্ত্রিসভার সদস্য এবং বিধায়কদের সাথে বৈঠক করেছেন৷ অবশ্য এই বৈঠক মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের জন্য আস্থার মাপকাঠি বলে ধরে নিচ্ছে রাজনৈতিক মহল৷
এদিনের বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী জিষ্ণু দেববর্মা, শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ, পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায়, খাদ্যমন্ত্রী মনোজকান্তি দেবরায়, সমাজ কল্যাণ ও সমাজ শিক্ষামন্ত্রী সান্ত্বনা চাকমা, বিধানসভায় মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায়, বিধায়ক ভগবান দাস, শঙ্কর রায় সহ বেশ কয়েকজন বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন৷ সূত্রের খবর, স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে আগামী রবিবারের মুখ্যমন্ত্রীর কার্যক্রম দিল্লির নির্দেশে বাতিল হয়েছে৷
প্রসঙ্গত, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন, না চলে যাবেন, এ-বিষয়ে সমাবেশে জনতার রায় নেওয়ায় কোনও প্রয়োজন নেই৷ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিপ্লব কুমার দেবের উচিত ত্রিপুরাবাসীর সেবা করে যাওয়া এবং দলীয় অভ্যন্তরীণ সমস্যা পার্টি হাইকমান্ডের উপর ছেড়ে দেওয়া৷ দলের সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সাথে আলোচনার পর এমনটাই জানিয়েছেন বিজেপির ত্রিপুরা প্রভারি বিনোদ সোনকর৷ তাঁর কথায়, ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রীর সাথে সর্বভারতীয় সভাপতিরও এ-বিষয়ে আলোচনা হয়েছে৷ তাতে স্পষ্ট, আগামী রবিবার ১৩ ডিসেম্বর সমাবেশে জনতার রায় বিপ্লব কুমার দেবের নিতে হবে না৷
ত্রিপুরার ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছিলেন রাজ্যবাসী৷ মুখ্যমন্ত্রী পদে বিপ্লব কুমার দেবেকে চাইছেন কি ত্রিপুরারবাসী? ওই বিষয়টি জনসমক্ষে স্পষ্ট হওয়ার জন্য অগ্ণিপরীক্ষার মুখোমুখি হতে চেয়েছিলেন বিপ্লব৷ খোলা ময়দানে জনগণের রায় নিতে চেয়েছিলেন তিনি৷ ত্রিপুরাবাসী চাইলেই মুখ্যমন্ত্রী থাকবেন, না চাইলে জনতার রায় মাথা পেতে নিয়ে সমস্ত বিষয় পার্টি হাইকমান্ডের কাছে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ এতে পার্টি যা সিদ্ধান্ত নেবে তা মেনে নেবেন, এমনটাই গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷
প্রসঙ্গত, গত রবিবার রাজ্য অতিথিশালায় বিজেপির প্রদেশ প্রভারি বিনোদ সোনকরের সামনে বিপ্লব হটাও, বিজেপি বাঁচাও স্লোগান দিয়েছিলেন দলীয় একাংশ কর্মী৷ ওই ঘটনা তাঁকে অত্যন্ত ব্যথিত করেছে৷ তাই, জনতার রায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে গতকাল জানিয়েছিলেন বিপ্লব দেব৷
বিজেপি-র ত্রিপুরা প্রভারি বিনোদ সোনকর বলেন, ত্রিপুরায় সমাবেশে জনতার রায় নেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই৷ বরং মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ত্রিপুরাবাসীর সেবা করুন বিপ্লব কুমার দেব৷ এছাড়া কোনও সমস্যা সমাধানের জন্য পার্টি হাইকমান্ডের উপর ছেড়ে দেওয়া উচিত৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় সংগঠনে কোনও মতভেদ নেই৷ পরিবার অনেক বড়, কিন্তু সকলের কথা শুনবে দল৷ তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকার বিষয়ে জনতার রায় নেওয়ার বিষয়ে সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডার সাথে বিপ্লব কুমার দেবের কথা হয়েছে৷ এতেই বিষয়টি স্থির হয়েছে৷
আজ সন্ধ্যায় বৈঠক সেরে ইতিমধ্যেই অনেকে বেরিয়ে গেছেন৷ যাওয়ার সময় মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের প্রতি আস্থার প্রদর্শন করে গেছেন তাঁরা৷ পরিবহণমন্ত্রী প্রণজিৎ সিংহরায় সাফ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের প্রতি তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে সকলের৷ কারণ, গত রবিবার যাঁরা স্লোগান দিয়েছিলেন তাঁরা আদৌ বিজেপি কর্মী কিনা সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি৷ শিক্ষামন্ত্রী রতনলাল নাথ জানিয়েছেন, গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা শুনে আমরা সকলেই তাঁর সাথে দেখা করেছি৷ তবে বৈঠকের নির্যাস আমার পক্ষে প্রকাশ্যে আনা সম্ভব নয়৷ বিধায়িকা তথা রাজ্য বিধানসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণী রায় বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে৷ তাছাড়া মন্ত্রী মনোজ কান্তি দেব জানিয়েছে, এদিন সৌজন্যতামূলক সাক্ষাৎকার করা হয়েছে৷ তাছাড়া আলোচনায় উঠে এসেছে ১৩ ডিসেম্বরের জনতার রায় সংক্রান্ত আস্তাবল ময়দানের জনসভার বিষয়টিও৷ তবে আলোচনার বিস্তারিত সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে নারাজা৷ একই সুরে কথা বললেন বিধায়ক রতন চক্রবর্তীও৷ তিনি সাফ জানান, নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎকার৷
তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন, বিপ্লব কুমার দেব আমাদের পরিষদীয় নেতা৷ আমরাই তাঁকে নেতা নির্বাচিত করেছি৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরার ইতিহাসে বিপ্লব দেবের মতো ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখ্যমন্ত্রী দেখিনি৷ তাঁর কথায়, বিপ্লব কুমার দেব গতকালের ঘোষণায় বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর পদের জন্য তিনি লালায়িত নন৷ বরং ওই সাহসী সিদ্ধান্ত তাঁর সরলতার পরিচয় দিয়েছে৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রীর সাথে যারা সাক্ষাৎ করেছেন তারা হলেন, কল্যাণী রায়, সান্ত্বনা চাকমা, সুরজিৎ দত্ত, রামপদ জমাতিয়া, প্রণজিৎ সিং রায়, রতন লাল নাথ, মনোজকান্তি দেব, ভগবান দাস, অরুণ চন্দ্র ভৌমিক, রেবতি মোহন দাস, দীলিপ কুমার দাস, পিনাকি দাস চৌধুরী, শংকর রায়, যীষ্ণু দেববর্মা, রঞ্জিত দাস, রতন চক্রবর্তী, কৃষ্ণধন দাস, মিমি মজুমদার, বিপ্লব কুমার ঘোষ, সুভাষ দাস, বিরেন্দ্র কিশোর দেববর্মা৷