বিজেপিতে অন্তর্কোন্দলের রীতি নেই

আগরতলা, ৫ ডিসেম্বর (হি.স.)৷৷ বিজেপি-তে অন্তকর্োন্দলের কোনও রীতি নেই৷ কারণ, বিজেপি কার্যকর্তাদের অনুশাসন সারা দেশে অনুকরণীয়৷ ত্রিপুরা সফরে এসে সংবর্ধনা সভায় সকলকে দলীয় অনুশাসন এভাবেই মনে করালেন দলের নবনিযুক্ত প্রভারি বিনোদ সোনকর৷ সাথে তিনি আশ্বস্তও করেছেন, তিনি শুধুই প্রভারি, তাতে কারোর ওপর কঠোর প্রভাব পড়বে না৷
সম্ভবত, খুবই কঠিন সময়ে ত্রিপুরার দায়িত্ব পেয়েছেন বিনোদ সোনকর৷ কারণ, শাসক দল হওয়া সত্ত্বেও মাঝেমধ্যে অন্তর্সংঘাত শিরোনামে স্থান পায়৷ তাতে মনে হওয়া স্বাভাবিক, ত্রিপুরায় বিজেপি দ্বিখণ্ডিত৷ শাসক দলের অন্দরে বিরোধিতার লড়াই চলছে৷ অবশ্যই, এই পরিস্থিতি দলের হাইকমান্ডকে নিশ্চিন্তে থাকতে দিচ্ছে, এমনটা দাবি করারও অবকাশ খুবই ক্ষীণ৷ ফলে, নবনিযুক্ত প্রভারির ত্রিপুরা সফরে নতুন রাজনীতির সমীকরণ লক্ষ্য করা যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে৷


আজ সংবর্ধনা সভায় বিনোদ সোনকর আগাগোড়া কার্যকর্তাদের মনোবল বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন৷ বারবার তিনি কার্যকর্তাদের ত্রিপুরায় সাফল্যের জন্য পিঠ চাপড়েছেন৷ বিচক্ষণ নেতৃত্বের পরিচয় হিসেবে সকলে এমনটাই হয়ত আশা করেছিলেন৷ এদিন তিনি বলেন, বুথ স্তর থেকে আজ আমি এই স্থানে পৌঁছেছি৷ তাই, কার্যকর্তাদের ত্যাগ, বলিদান আমার কাছে অজানা নয়৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় সরকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর্তাদের অবদান কখনও অস্বীকার করা যাবে না৷ কিন্তু, এখন থেমে গেলে হবে না৷ পঞ্চায়েত থেকে সংসদ পর্যন্ত বিজেপি-র বিজয় কেতন উড়ানোর দায়িত্বও পালন করতে হবে৷
তাঁর কথায়, ত্রিপুরায় সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার উপায় খুঁজে বের করতেই এসেছি৷ তাঁর বিশ্বাস, ত্রিপুরায় সরকার প্রতিষ্ঠা করার কঠিন কাজ সম্ভব হয়েছে৷ ফলে, সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকার কথা নয়৷


সোনকর মনে করিয়েছেন, বিজেপি-তে অন্তকর্োন্দলের কোনও রীতি নেই৷ তাঁর কথায়, সরকার এবং শাসক দলে সংঘর্ষের কোনও রীতি নেই বিজেপি-র৷ সকলে মিলেই সংগঠন ও রাজ্যকে আরও শক্তিশালী করার দায়িত্ব পালন করেন৷ তাঁর দাবি, ত্রিপুরায় সরকার প্রতিষ্ঠায় কোনও চমৎকার নয়৷ তাই, কীভাবে ক্ষমতায় টিঁকে থাকা যায় তার উপায় বের করতে হবে৷
ত্রিপুরাবাসী প্রথমবারের মতো মানুষের সরকার পেয়েছে৷ পূর্বতন সরকার ছিল পার্টির সরকার৷ সরকার মানে পার্টি অফিস ছিল৷ বর্তমান সরকার মানে মহাকরণ, পঞ্চায়েত মানে বিধানসভা৷ মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব শনিবার আগরতলায় বিজেপির নতুন দ্বায়ীত্বপ্রাপ্ত প্রভারী বিনোদ কুমার সোনকারকে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে একথাগুলি বলেছেন৷
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবের ভাষণের সিংহভাগই ছিল বিজেপি জোট সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির প্রচার৷ রাজনৈতিক কিংবা সাংগঠনিক দিকগুলি নিয়ে ততটা খোলামেলা আলোচনা করেননি৷ যদিও এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি ছিল মূলত পার্টির মন্ত্রী, বিধায়ক, বিভিন্ন স্বশাসিত সংস্থার প্রধান এবং মন্ডল ও রাজ্যস্তরের নেতৃত্বের৷


তবে, এদিন শ্রী দেব বলেন, ত্রিপুরার নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রভারী বিনোদ কুমার সোনাকরারের দক্ষতায় দল এখানে আরও বেশী শক্তি পাবে এবং সাংগঠনিক দিক দিয়ে দলকে আরো বেশী মজবুত করে তুলবে৷ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব বলেন, ত্রিপুরার ইতিহাসে এত অল্প সময়ের মধ্যে কোন সরকার ২৩ হাজার ১টি চাকরী দিতে পারেনি৷ বিজেপি জোট সরকার এই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে৷ শুধু তাই নয় জনগণের সরকার এখানে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন৷ এদিন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সময়ে গৃহীত কর্মসূচীর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের বহু প্রকল্পের উল্লেখ করে বলেন, এরাজ্যে সরকারী সুযোগ সুবিধা প্রদানে কিংবা সুবিধভোগী চয়নে কোন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি রাখা হয় না৷ তিনি আশা করেন, আগামীদিনে এরাজ্যের মানুষ আরও বেশী স্বাচ্ছন্দপূর্ণ জীবনযাপন করতে পারবেন৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *