সমবায় সমিতিগুলিকে লাভজনক সংস্থায় পরিণত করতে হবে : মুখ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২০ নভেম্বর৷৷ গ্রামীণ অর্থনীতিকে মজবুত করতে রাজ্যের সমবায় সমিতিগুলিকে লাভজনক সংস্থায় পরিণত করতে হবে৷ পাশাপাশি সমবায় সমিতিগুলিকে বহুমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে৷ আজ টাউন হলে ৬৭ তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষ্যে সমবায় দপ্তর ও ত্রিপুরা রাজ্য সমবায় ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনাচক্রের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব একথা বলেন৷


আলোচনাচক্রের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যে সমবায় সমিতিগুলি মূলতঃ গ্রামীণ এলাকার জনগণের আর্থিক ও সামাজিক মানোন্নয়নের জন্য কাজ করে৷ রাজ্যে বর্তমানে ল্যাম্পস, প্যাক্স সহ ৮,০০৮টি সমবায় সমিতি রয়েছে৷ এর সাথে রাজ্যের ৮ লক্ষ ৩৯ হাজার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছেন৷ সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০২১ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সমস্ত মৃতপ্রায় সমবায় সমিতিগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার৷ সমবায় সমিতিগুলিকে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য এবং আর্থিকভাবে লাভজনক হওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ভোকাল ফর লোক্যাল’ আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণের উপর সমবায় সমিতিগুলিকে কার্যকরী ভূমিকা নিতে হবে৷ পাশাপাশি লাভজনক সংস্থায় পরিণত করতে সমবায় সমিতিগুলিকে বহুমুখী ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রয়োজন৷ এ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী গোমতী মিল্ক ইউনিয়নের উদাহরণ টেনে বলেন, গোমতী মিল্ক ইউনিয়ন আগে শুধুমাত্র দুধের উৎপাদন ও বিপননের কাজে যুক্ত ছিল৷ বর্তমানে গোমতী মিল্ক ইউনিয়ন দুধের ব্যবসার পাশাপাশি দুগ্দজাত বিভিন্ন সামগ্রী যেমন মিষ্টি এবং বিভিন্ন ফলের স্বাদযুক্ত আইসক্রিমও তৈরী করছে৷ গোমতী মিল্ক ইউনিয়ন উৎপাদিত এইসব দ্রব্য দেশ-বিদেশে বিক্রি করার উদ্দ্যেশে আগরতলা মহারাজা বীরবিক্রম বিমান বন্দরে একটি স্টলও খোলা হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন সমবায় সমিতিগুলির উৎপাদিত পণ্যগুলি গভর্নমেন্ট ই-মার্কেটিং -এর (জেম) মাধ্যমে বাজারজাতকরণের উপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক৷ তবেই সমবায় সমিতিগুলি সাফল্যের পথে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন৷ রাজ্যের কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলির সাফল্যের তথ্য তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যের কো-অপারেটিভ ব্যাংকের সি ডি রেশিও ৫৪.৯৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৬.০৩ শতাংশে পৌঁছেছে৷ কো-অপারেটিভ ব্যাংকগুলির ভালো ব্যবসার ফলেই তা সম্ভব হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী অভিমত ব্যক্ত করেন৷


মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময়কালে রাজ্যের জনগণের ক্রয় ক্ষমতা অনেক বেড়েছে৷ তাছাড়াও রাজ্যে শিক্ষা পরিকাঠামো সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়ন সাধিত হয়েছে৷ তিনি বলেন, পুরোনোর সঙ্গে নতুন কিছু স্থাপন করাই বর্তমান রাজ্য সরকারের কাজের অভিমুখ৷
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজ্যে চুড়াইবাড়ী থেকে আগরতলা পর্যন্ত জাতীয় সড়কের সংস্কারের কাজ যেমন চলছে তেমনি চুড়াইবাড়ী থেকে খোয়াই হয়ে আগরতলা পর্যন্ত বিকল্প নতুন সড়কপথ নির্মাণের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে৷ আগামী এক বছরে রাজ্যের সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে ১১ হাজার কোটি টাকার কাজ হবে৷ রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০ টি বিদ্যালয়কে সি বি এস ই-র অধীনে নেওয়া হয়েছে, এন সি ই আর টি পাঠ্যক্রম চালু করা হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ইংরেজী মাধ্যম বিদ্যালয় স্থাপন করা হচ্ছে৷ এছাড়াও রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সাবমে বিশেষ অর্থনৈতিক অ’ল গঠন এবং আধুনিক ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্ট তৈরী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে৷ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, রাজ্যে বর্তমানে বড়মাত্রায় জব ক্রিয়েটার তৈরী হয়েছে৷ পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের রোজগারের সুুযোগ স’ষ্টি হয়েছে৷ রাজ্য সরকার রাজ্যের উন্নয়নে যে দিশা নিয়ে কাজ করছে সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সমবায় সমিতিগুলিকে কাজ করতে আহ্বান জানান মুখ্যমন্ত্রী৷

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির ভাষণে শিক্ষামন্ত্রী রতন লাল নাথ বলেন, রাজ্যে সমবায় দপ্তরের পরিধি অনেক বিস্ত’ত হয়েছে৷ বর্তমান সরকারের আড়াই বছরের সময়কালে ৫০৭টি সোসাইটি লাভজনক সংস্থায় পরিনত হয়েছে, যা ২০১৬-১৭ সালে ছিল মাত্র ৪১২টি৷ রাজ্যের অন্যতম সফল সংস্থা গোমতি কো-অপরেটিভ মিল্ক ইউনিয়ন দুগ্দ উৎপাদন, দুধ সংগ্রহ সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নতি লাভ করেছে৷ রাজ্য সরকার রাজ্যকে ডিম, মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পর্ণ হওয়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে কাজ করছে৷ এক্ষেত্রে সমবায় সমিতিগুলিকে অগ্রণী ভূমিকা নেওয়ার জন্য আহ্বান জানান শিক্ষামন্ত্রী৷
অনুষ্ঠানে মৎস্যমন্ত্রী নরেন্দ্র চন্দ্র দেববর্মা তার ভাষণে বলেন, রাজন্য শাসনকাল থেকেই সমবায় রাজ্যের জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল৷ সেই সময় জনজাতিরা সমবায়ের আদর্শ মেনেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করত৷ ৬৭তম অখিল ভারত সমবায় সপ্তাহ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে গোমতি মিল্ক ইউনিয়ন দ্বারা তৈরী বিভিন্ন মিষ্টি জাতীয় দ্রব্য এবং কিল্লার উৎপাদিত কমলালেবুর আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণের সূচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ এছাড়াও অনুষ্ঠানমঞ্চে ৩টি সমবায় সংস্থাকে ঋণের মঞ্জুরীপত্র প্রদান করা হয়৷

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *