আগরতলা, ৯ নভেম্বর (হি.স.)৷৷ করোনা-র সংক্রমণ আটকাতে দীপাবলিতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ত্রিপুরা প্রশাসন৷ দুগর্োৎসবের মতোই বিধিনিষেধ জারি করেছেন মুখ্যসচিব মনোজ কুমার৷
এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁর আদেশ, দীপাবলি উৎসব এবং কালী পূজায় পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ আয়োজকদের ওই বিষয়টি সুনিশ্চিত করতে হবে৷ তাছাড়া, কালীমন্দির কিংবা সামাজিক সংস্থা আয়োজিত পূজা মণ্ডপের সামনে মেলার আয়োজন করা যাবে না৷ এদিকে, উদয়পুরে ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে কালী পূজা নিয়ে গোমতির জেলাশাসক পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন৷ রাজন্য আমল থেকে ওই মন্দিরে পূজা হচ্ছে৷ এবারই কালী পূজা অনেকটাই আড়ম্ভরহীন হবে৷
পূজা কমিটিগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, খোলা আকাশের নীচে কালী পূজার আয়োজন করতে হবে৷ তাতে, দর্শনার্থীরা দূর থেকেই মায়ের মূর্তি দর্শন করতে পারবেন৷ সামাজিক পূজায় প্রতিমার উচ্চতা সবর্োচ্চ ৫ ফুট রাখার জন্য বলা হয়েছে৷ এছাড়া, পূজা মণ্ডপে একত্রে একই সময়ে পাঁচজন থাকতে পারবেন, এমনই অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷
বিজ্ঞপ্তিতে সাফ বলা হয়েছে, পূজা মণ্ডপ দিনে অন্তত তিনবার স্যানিটাইজ করতে হবে৷ এছাড়া, পূজা মণ্ডপে দর্শনার্থীদের পরীক্ষা করার জন্য থার্মাল স্ক্রিনিঙের ব্যবস্থা রাখতে হবে৷ কারোর দেহে উচ্চ তাপমাত্রা ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে৷
বাড়িঘরে কালী পূজা উদযাপনের ক্ষেত্রে আমন্ত্রিতদের সংখ্যা ১৫-২০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে৷ প্রত্যেকের মাস্ক পড়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ সাথে পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে৷ বিশেষ ভাবে মনে রাখতে হবে, পরিবেশ দফতরের নির্দেশিকা মেনে বাজি পোড়ানো যাবে৷ এ-ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বাজি পোড়ানো হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷
এদিকে, বাজারে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে৷ সে-দিকে জেলা পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজরদারি চালাতে হবে৷ পূজা মণ্ডপে ভিড় এড়ানোর জন্য পুলিশ প্রশাসনকে নজর রাখতে হবে৷ এরই সাথে সামগ্রিক বিষয়ে পুলিশ এবং পুর ও নগর সংস্থা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় রক্ষা করবে৷
মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব আজ রাজ্যবাসীর কাছে আবেদন রেখেছেন, দুগর্োৎসবের মতোই দীপাবলি উৎসবেও করোনা মোকাবিলায় সতর্কতা অবলম্বন করুন৷ সরকারি আদেশ পালনে কোনও গাফিলতি করবেন না৷ কারণ, জনগণের সহযোগিতা ছাড়া করোনা মোকাবিলা সম্ভব হবে না৷ সাথে তিনি যোগ করেন, ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরেও পূজা দিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিনিষেধ মেনে চলুন৷
তাঁর কথায়, দুর্গা পূজায় ত্রিপুরাবাসী সরকারি নিয়ম পালন করেছেন৷ তাই এখন ত্রিপুরায় সুস্থতার হার ৯৫.০৭ শতাংশে পৌঁছেছে৷ তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, সুস্থতার হার আরও বাড়বে৷ তিনি জানিয়েছেন, সারা রাজ্যেই মেলা বাতিল করা হয়েছে৷ শুধু মন্দিরের সামনে যে সমস্ত দোকান রয়েছেন সেগুলি খোলা থাকবে৷