নিজস্ব প্রতিনিধি, চড়িলাম, ৭ অক্টোবর৷৷ বিশালগড় থানা থেকে শুরু করে রাজ্যের অধিকাংশ থানার মধ্যে নাসির আহমেদ উরফে নসুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন চুরি, ছিনতাইবাজ, অবৈধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এইসবের জন্য কেইস রয়েছে৷ শুধুমাত্র একবার নয় কয়েকবার অবৈধ মাল সমেত পুলিশের জালে আটক হয়েছে এই মাস্টার মাইন্ড নসু৷
কিছুদিন আগেও পানিসাগর থানার পুলিশের কাছে ড্রাগ সহ একটি চুরির গাড়ী সমেত আটকে পড়ে মাস্টার মাইন্ড৷ কিন্তু কিছু কিছু ক্ষমতাশালী লোক শাসক দলের নাম করে থানায় গিয়ে ক্ষমতা দেখিয়ে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এদের মতো অপরাধীদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়৷ কিন্তু থানা থেকে ছুটে সেই অবৈধ কাজে আবার লিপ্ত হয়ে যায়৷ কিন্তু এবারের ছিনতাই করাটা যেন ফিল্মি কায়দায়৷ পুরাতন আগরতলার পাঁচ নাম্বার মন্ডলের পঞ্চায়েত প্রধান মনোরঞ্জন দেবনাথের ছেলে একটা বাইক বিক্রি করবে বলে ওএলএক্স এ এড দেয়৷ সেই বাইকের ছবি পেয়ে ওএলএক্স থেকে নাম্বার সংগ্রহ করে বিশালগড় থানার অন্তর্ভুক্ত নোয়াপাড়া এলাকার নাসির আহমেদ, রাউৎখলা এলাকার রনি ওরফে অশোক সহ তিনজন এদের স্করপিও গাড়ি নিয়ে আগরতলায় বাইকটিকে দেখতে যায়৷ প্রথমদিন বাইকটিকে দেখে কিভাবে বাইকটিকে ছিনতাই করা যাবে তার পুরোপুরি ছক কষে আসে এবং দ্বিতীয় দিন ওরা তিনজন বাইকটিকে কিনবে বলে ফোন করে খয়েরপুর পল্লীমঙ্গল সুকলের সামনে বিক্রেতাকে ফোন করে নিয়ে আসে৷ বাইক বিক্রেতা ও তার এক বন্ধু একসঙ্গে সেখানে উপস্থিত হয় এবং ট্রায়াল দেবার কথা বলে বাইকটিতে চড়ে বসে নসু এবং কিছুক্ষণ আসলে পেছনে বসা ছেলেটাকে ধাক্কা মেরে বাইক থেকে ফেলে দিয়ে নসু বাইকটিকে ছিনতাই করে নিয়ে আসে৷
কিন্তু অপর বাইকে নসুর সহপাঠী রনি ও তার বন্ধু সেখানে দাড়িয়ে বাইক বিক্রেতার গলায় ছুড়ি দিয়ে চিৎকার চেচামেচি না করার জন্য বলে৷ তাকে মারধর করে সেখানে ফেলে দেয়৷ অসহায় বাইক বিক্রেতা ছিনতাইকারীরা একটু দুরে গেলে চিৎকার করলেও তখন ছিনতাই বাজরা চলে যায় নাগালের বাইরে৷ তখন গত সোমবার লেম্বুছরা থানায় এই বিষয়ে একটি মামলা করা হয়েছে৷ এবং সেই থানা থেকে মোবাইল নাম্বারে দেখতে পায় যেই নাম্বার দিয়ে বাইক টিকে কিনার জন্য বলেছে সেটা ট্রু কলারে নাসির আহমেদ এর নাম্বার এবং বাড়ি বিশালগড় এলাকায়৷ তখন বিধায়ক রতন চক্রবর্তীর সহয়তা পেয়ে বিশালগড় থানায় দারস্থ হয় ঐ বিক্রেতা ও তার পরিবার৷ বিশালগড় থানা এই ব্যপারে যথেষ্ট সহায়তা করে ফোনের পর ফোন করে প্রায় রাত এগরটায় সেই বাইকটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়৷
বাইক বিক্রেতার পিতা যিনি নাকি পুরাতন আগরতলার পাঁচ নাম্বার মন্ডলের পঞ্চায়েত প্রধান মনোরঞ্জন দেবনাথ জানিয়েছেন নাসির আহমেদ উরফে নসুর শ্বশুর বিশালগড় বাইদ্যাদিঘি এলাকার কামাল হোসেন ওনাকে ফোন করে এবং থানাতে নসুর বিরুদ্ধে যেন কোন কেইস না করে৷ আর যদি কেইস করে তবে ঐ কেইস থানা থেকে তুলে একটি মিমাংসা পত্র ওনার কাছে দিলে ওনি ওনার জামাতা নসুর কাছ থেকে বাইক টিকে উদ্ধার করে ওনাকে ফিরিয়ে দেবে৷ তবে বিশালগড় মহকুমা এমনকি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ছিনতাইয়ের ঘটনা কিন্তু থেমে নেই৷ রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন একটু চেষ্টা করলেই সেগুলোকে থামিয়ে আনতে পারে৷