নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ৬ অক্টোবর৷৷ ত্রিপুরায় সম্প্রতি কোভিড-১৯ নমুনা পরীক্ষা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে৷ ফলে, আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে৷ তাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে এমনটা ভাবা ভুল হবে৷ এ-ভাবে মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়াবে৷ আজ মঙ্গলবার কোভিড-১৯ নিয়ে সুয়োমোটো মামলায় ত্রিপুরা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি এই মন্তব্য করেছেন৷ পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা কীভাবে বাড়ানো যায়, তা সুনিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছেন৷ শুধু তা-ই নয়, বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আরও কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা ত্রিপুরা সরকারকে জানাতে বলেছেন৷ এই মামলায় পরবর্তী শুনানির দিন ১৩ অক্টোবর ধার্য করেছে ত্রিপুরা হাইকোর্ট৷
ত্রিপুরায় করোনা পরিস্থিতি নিয়ে উচ্চ আদালত সুয়োমোটো মামলা নিয়েছে৷ গত ১১ সেপ্ঢেম্বর ওই মামলা নথিভুক্ত হয়েছিল৷ এর পর ১৮ সেপ্ঢেম্বর, ২৮ সেপ্ঢেম্বর, ৫ অক্টোবর এবং আজ ৬ অক্টোবর ওই মামলার শুনানি হয়েছে৷ করোনা পরিস্থিতি নিয়ে দিল্লির বিশেষজ্ঞ কমিটির রিপোর্টের উপরই উচ্চ আদালত বিশেষ জোর দিয়েছে৷ ইতিমধ্যে ত্রিপুরা সরকার ওই রিপোর্টের ভিত্তিতে কার্যকরী ব্যবস্থা উচ্চ আদালতে জানিয়েছে৷ তার পরও হাইকোর্ট আরও কিছু প্রশ্ণের জবাব চেয়েছে৷ ত্রিপুরা সরকার সেই সমস্ত প্রশ্ণের জবাব দেওয়ার পর আজ নতুন করে আরও কিছু বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারের স্পষ্টীকরণ চেয়েছে উচ্চ আদালত৷
আজ প্রধান বিচারপতি ত্রিপুরায় করোনা-র নমুনা পরীক্ষা নিয়ে সওয়াল করেছেন৷ তার জবাবে অ্যাডভোকেট জেনারেল যুক্তি দিয়ে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন৷ সম্প্রতি নমুনা পরীক্ষায় নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে৷ স্বাভাবিক ভাবেই আক্রান্তের সংখ্যাও কমেছে৷ প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি জানতে চেয়েছেন, নমুনা পরীক্ষায় নিম্নমুখী প্রবণতা কেন হয়েছে৷ কারণ, বিমানবন্দর, রেল স্টেশন এবং চোরাইবাড়ি গেটে প্রত্যাহৃত পরীক্ষা অন্যত্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল৷ অ্যাডভোকেট জেনারেল আদালতে জানান, ওই সমস্ত স্থানে গড় আক্রান্তের সংখ্যা এক শতাংশে নেমে এসেছে৷ তাই ত্রিপুরা সরকার সেখানে ১০০ শতাংশ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে৷ তাছাড়া অন্যত্র সেই পরীক্ষা করার মতো সুযোগ পাওয়া যাচ্ছে না৷ সে-বিষয়ে মুখ্যসচিব গতকাল বৈঠক করেছেন৷
প্রধান বিচারপতি বলেন, করোনা-র নমুনা পরীক্ষা কমিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা কমে গেছে এমনটা ভাবা ভুল হবে৷ তাতে মানুষের কাছে ভুল বার্তা পৌঁছাবে৷ মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে ভুল ধারণা নিয়ে রাখবে৷ তাঁর সাফ কথা, এমনভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে গেছে মনে করা ঠিক হবে না৷ তা হলে সেটা গুরুতর অন্যায় হবে৷ তিনি নির্দেশ দেন, যে স্থানে করোনা-র নমুনা পরীক্ষা প্রত্যাহৃত হয়েছে, তা অন্যত্র করার ব্যবস্থা হোক৷
এ-সমস্ত বিষয়ে ত্রিপুরা সরকারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত৷ পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বিশেষজ্ঞ দলের রিপোর্টের কার্যকরী পদক্ষেপ সবিস্তারে জানাতে বলেছে প্রধান বিচারপতি আকিল কুরেশি এবং বিচারপতি শুভাশিস তলাপাত্রের ডিভিশন বেঞ্চ৷



















