আগরতলা, ২৮ আগস্ট (হি. স.) : ত্রিপুরায় করোনা মানচিত্রে সবচেয়ে স্থানে অবস্থানে রয়েছে আগরতলা পুর নিগম এলাকা৷ নিগমের শুধুমাত্র ৯টি ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্তের হার ২১ শতাংশ৷ যেখানে সারা ত্রিপুরায় করোনা আক্রান্তের হার ৩.৮৬ শতাংশ৷ আজ রাতে ভিডিও বার্তায় এই তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব৷ সাথে তিনি ত্রিপুরাবাসী-কে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান সময় প্রচন্ড ঝুকিপুর্নঊ সকলকেই যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন এবং সরকারি নিয়ম মেনে চলতে হবে৷
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সকলেই কোভিড-১৯ সম্পর্কে অবগত রয়েছেন৷ সম্প্রতি সাড়ে ৯ লক্ষ পরিবারের কাছে স্বাস্থ্য দফতরের ১২ হাজার কর্মী পৌছেছিলেন৷ সমীক্ষার সাথে এন্টিজেন টেস্ট করা হয়েছিল৷ তাতে, ধারনা পাওয়া গিয়েছিল করোনা-র প্রভাব কতটা পড়তে পারে৷ কিন্ত, বিগত কিছুদিন যাবত লক্ষকরেছি, করোনা থেকে নিস্তার হয়ে গেছে ভেবে মানুষ স্বাভাবিক চলাচল শুরু করেছেন৷ সরকারী নিয়মের তোয়াক্কা না করে মনমর্জি চলাফেরা করছেন৷ তিনি বলেন, অর্থনীতি সামলাতে পারস্পরিক দুরত্ব মেনে, মাস্ক পরে, স্যানিটাইজ ও সাবধানতা অবলম্বন করে মানুষের চলাফেরায় অনুমতি দেওয়া হয়েছিল৷ কিন্ত, তাতে পুর নিগমের ৯ টি ওয়ার্ডে বিরাট মাত্রায় করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছে৷ তাঁর কথায়, সারা ত্রিপুরায় করোনা-র সংক্রমনের হার ৩.৮৬ শতাংশ৷ কিন্ত, পুর নিগম এলাকায় সেই হার প্রায় ২১৷ তাঁর দাবি, করোনা-র সংক্রমণ ১০ অতিক্রম করলেই যথেষ্ট চিন্তাজনক৷ সেখানে পুর নিগমের শুধু ৯টি ওয়ার্ডে ২১ শতাংশ সংক্রমণ গভীর বিপদের হাতছানি দিচ্ছে৷ তাই প্রথম লক ডাউন-র মতোই সাবধানতা পুনরায় অবলম্বন করতে হবে৷
তিনি বলেন, লেক চৌমুহনী বাজারে ৪৫ টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল৷ তাতে ২৬ জন করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলেছেঊ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, পুর নিগমের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ৯২ জন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ১২২ জন, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৫২ জন, ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৪ জন, ২০ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৯ জন, ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৯৩ জন, ৩২ নম্বর ওয়ার্ডে ৩২ জন, ৪০ নম্বর ওয়ার্ডে ১০০ জন এবং ৪৬ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৯ জন করোনা আক্রান্ত রয়েছেন৷ তাঁর দাবি, যেখানেই লক সমাগম বেশি করোনা-র প্রকোপ আসবেহ৷ তিনি উষ্মা প্রকাশ করে বলেন, মহারাজ গঞ্জ বাজার, বিভিন্ন সব্জি বাজার, বটতলা বাজারের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে সব স্বাভাবিক হয়ে গেছে৷ তিনি করোনা মোকাবিলায় সকলের সহযোগিতা চেয়েছেন৷ সতর্কতা হিসেবে পুর নিগম এলাকায় সরকারি অফিস-এ রোষ্টার মেনে কাজ এবং হোম আইসোলেসনে রয়েছেন আর্থিক দিক দিয়ে দুর্বল পরিবার গুলিকে নগদ ১৫০০ টাকা কিংবা ১৬ কেজি খাদ্য সামগ্রী বিনামূল্যে সরবরাহ করার ঘোষণা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী৷
তাঁর মতে, বর্তমান সময় সবচেয়ে ঝুকিপুর্ন৷ উদাহরন হিসেবে তিনি বলেন, প্রথমে সিপাহিজলায় সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্তের সন্ধান মিলছিল৷ কিন্ত তারা সতর্ক হয়েছেন, নিয়ম মেনেছেন, তাই ফল পেয়েছেন৷ অথচ, পুর নিগম এলাকা এবং সমগ্র পশ্চিম জেলা সরকারি নিয়ম মানেনি এবং সতর্কতা অবলম্বন করেনি তাই করোনা-র প্রকোপ হু হু করে বাড়ছে৷ তিনি সকলকে সরকারি নিয়ম মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন৷ সাথে, আগামীকাল থেকে ভিড় এড়ানো, বাজার স্থানান্তর এবং বাজার পরিস্কার রাখার ক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন৷

