রাজ্যের পৃথক স্থানে মহিলাসহ চারজনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিনিধি, শান্তিরবাজার/ চড়িলাম/আগরতলা, ২০ আগস্ট৷৷ রাজ্যের পৃথক স্থানে চারজনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ তার মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছে৷ প্রতিটি ক্ষেত্রেই পুলিশ অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়েছে৷ তবে একটি ঘটনায় মৃতের পরিবারের লোকজন হত্যার অভিযোগ তুলেছেন৷


মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যার পথ বেছেনিলো এক গৃহবধূ৷ ঘটনার বিবরনে জানাযায় শান্তির বাজার মহকুমার অন্তর্গত লাউগাং দশঘড়ীয়া পাড়ার বাসিন্দা ঊষারানী দাস ( ৪৬ ) দীর্ঘদিন মানসিক রোগে ভূগছেন৷ আজ সকাল আনুমানিক ১০ ঘটিকায় ভাত খাওয়ার পর উনাকে দেখতেপাননি উনার বাড়ীর লোকজন৷ পরবর্তীসময় অনেক খোঁজা খুঁজির পর বাড়ীর পাশ্ববর্তী একটি সেগুন গাছের মধ্যে উনার ঝুলন্ত দেহ দেখতে পায় বাড়ীর লোকজন৷ এই ঘটনানিয়ে শান্তির বাজার থানার কর্তব্যরত এস আই জানান ঊষারানী দাসের দেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখার পর উনার পরিবারের লোকজন দেহটিকে নামিয়ে সঙ্গে সঙ্গে শান্তির বাজার জেলা হাসপাতাল নিয়ে আসে৷ বাড়ীর লোকজনের ধারনাছিলো ঊষারানী দাস বেচে আছে কিন্তু হাসপাতালে আসার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঊষারানী দাসকে মৃত বলে ঘোষনা করেন৷ পুলিশের কাছ থেকে ও বাড়ীর লোকজনদের কাছ থেকে জানাযায় ঊষারানী দাস দীর্ঘদিন যাবৎ মানসিক রুগে ভূগছেন৷ উনার এই মানসিক রোগের জন্য এই আত্মহত্যা বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনাকরাহচ্ছে৷ মৃতদেহ ময়না তদন্তের পর পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়াহয়৷

শান্তি কলোনী এলাকাথেকে উদ্ধারহয় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত পঁচাগলা মৃত দেহ৷ ঘটনার বিবরনে জানাযায় শান্তির বাজার মহকুমার অন্তর্গত কালির বাজারের বাসিন্দা মানিক দাস ( ৫০ ) গত শনিবারে নিজ বাড়ীথকে পাইখোলা এলাকায় নিজ ভোনের বাড়ীর উদ্দ্যেশ্যে রওনাহয়৷ তিনি সময় মতো ভোনের বাড়ীতে পৌঁছান৷ পরবর্তী সমর সোমবার ভোনের বাড়ী থেকে কাজ খোঁজার উদ্দ্যোশে চিত্তামারা ইট ভাট্টাতে আসেন৷ কিন্তু ইট ভাট্টা থেকে উনি আর ঘরে ফিরেননি৷ মানিক দাসের ভোন জানান সোমবারে কাজের খোঁজকরে মানিক দাস পুরায় ভোনের বাড়ীতে যাবার কথা বলেছিলো৷ কিন্তু সময় মতো ঘরে পৌঁছাননি তিনি৷ দীর্ঘ অনেকসময় অতিক্রান্ত হবার পর পরিবারের লোকজন মানিক দাস কে খোঁজা খুঁজি শুরু করেদেয়৷ অবশেষে গতকাল রাত্রি আনুমানিক ৮ ঘটিকায় উনার অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর পায় উনার পরিবারের লোকজন৷ জানাযায় শান্তি কলোনী এলাকার কিছু সংখ্যক উপজাতি অংশের লোকজন বাশকরুল সংগ্রহ করতেগিয়ে গভীর জঙ্গলে পঁচা গলা মৃতদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়৷ সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় শান্তির বাজার থানায়৷ ঘটনার খবরপেয়ে শান্তির বাজার থানার কর্মীরা গভীর রাত্রে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত মৃত দেহটিকে ময়নাতদন্তের জন্য শান্তির বাজার জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসে৷ এই অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঠিক কারন কেউ বলতে পারছেনা৷ উনার পরিবারের লোকজন জানান পরিবারে কোনোপ্রকার ঝগড়া বিবাদ ছিলোনা৷ উনার এই মৃত্যু কি হত্যা না আত্মহত্যা এই নিয়ে প্রশ্ণ চিহ্ণ থেকেযায়৷ ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ৷ ময়নাতদন্তরে পর উঠে আসবে মৃত্যুর আসল রহস্য৷


ফের ফাঁসিতে আত্মঘাতী এক ৪৫ বছরের যুবকের৷ তার নাম সমীর সাহা৷ বাড়ি চড়িলাম রাজিব কলোনি এলাকায়৷ জানা গেছে বুধবার রাতে বাজার থেকে এসে প্রতিদিনের ন্যায় খাওয়া-দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি৷ পাশের অন্য আরেকটি ঘরে তার ছেলে ঘুমিয়েছিলো৷ সমীর সাহার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছে৷ বৃহস্পতিবার সকাল বেলা প্রতিবেশী এক যুবক বাজারে যাওয়ার জন্য ডাকলে উনি কোন সাড়া দেননি৷ তখন জানালার একটি ছিদ্র দিয়ে দেখতে পায় উনি বিছানায় নেই সঙ্গে সঙ্গে৷ তখন সন্দেহ হয় তার৷সাথে সাথে এলাকাবাসীরা এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখতে পায় ঝুলন্ত অবস্থায় সমীর সাহা ঝুলছে৷ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে খবর দেওয়া হয় বিশালগড় থানায়৷ ছুটে আসেন বিশালগড় থানার পুলিশ৷ এসে ঝুলন্ত অবস্থায় থাকা সমীর সাহা কে বিশালগড় মহকুমা হাসপাতাল মর্গে নিয়ে আসা হয়৷ ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহটি তুলে দেওয়া হয় তার আত্মীয় পরিজনের হাতে৷আত্মহত্যার ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে৷


শ্রীনগর থানা এলাকার মলয় নগরের ৯৯ নম্বর জেলায় এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে৷ মৃত ব্যক্তির নাম সুদর্শন চক্রবর্তী৷তার বাড়ি মলয় নগরের মলয় নগর চৌমুহনী এলাকায়৷ ঝুলন্ত মৃতদেহ দেখতে পেয়ে পথচারীরা পুলিশকে খবর দেন৷ খবর পেয়ে শ্রীনগর থানার পুলিশ এবং মৃতের পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন৷ঝুলন্ত মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ৷ময়নাতদন্তের পর মৃত দেহটি পরিবারের লোকজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷পুলিশ প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু জনিত একটি মামলা গ্রহণ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷ তবে মৃতের পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মৃতদেহটি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে৷ সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ৷পরিবারের তরফ থেকে আরও জানানো হয়েছে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সুদর্শন চক্রবর্তী কে হত্যা করার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল৷এ বিষয়ে শ্রীনগর থানার পুলিশকে বিস্তারিত অবহিত করে অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবারের লোকজন রা৷ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে৷তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হতে পারবেনা বলে জানিয়েছে৷ মৃতদেহ উদ্ধারের সংবাদে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে৷