আগরতলা, ১০ আগস্ট (হি.স.)৷৷ করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউন লাগু রেখে ত্রিপুরার বাকি অংশে আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে আনলক-২ বিধিনিষেধ আরও শিথিল হচ্ছে৷ সমস্ত দোকান ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খুলবে৷ গণ-পরিবহণ ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে৷ তবে, পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে৷ আগের মতোই রাত্রিকালীন কার্ফিউ রাত ৯টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বলবৎ থাকবে৷ ১১ আগস্ট ভোর ৫টা থেকে ৩১ আগস্ট দুপুর ১২টা পর্যন্ত ওই আদেশ কার্যকর থাকবে৷
করোনা মোকাবিলায় ত্রিপুরায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছিল৷ এখন আনলক শুরু হয়েছে৷ তাতে, বিধিনিষেধে ছাড় আরও বাড়ানো হয়েছে৷ ত্রিপুরার মুখ্যসচিব আজ এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত আনলক-২-এর নির্দেশিকা ঘোষণা করেছেন৷ তাতে, করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সম্পূর্ণ লকডাউন জারি রাখা হয়েছে৷ সেখানে শুধুমাত্র জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে৷ সর্বশেষ করোনা আক্রান্ত চিহ্ণিত হওয়ার ১৪ দিন নতুন করে আক্রান্তের খবর পাওয়া না গেলে করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা অরেঞ্জ জোন হিসেবে ঘোষণা করা হবে৷ তেমনি, করোনা আক্রান্ত সুস্থ হওয়ার ১৪ দিন পর্যন্ত নতুন করে কেউ সংক্রমিত না হলে ওই এলাকা করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে৷
এদিকে, আনলক-২-তে সমস্ত দোকান, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ তবে পারস্পরিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে৷ বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, দোকানে সামনের অংশে দাঁড়ানোর জায়গায় ১ মিটার স্থান থাকলে এক জন মাত্র গ্রাহক দাঁড়াতে পারবেন৷ তেমনি, দুই মিটার হলে দুজন দাঁড়াতে পারবেন৷ বাকিদের পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রেখে দাঁড়াতে হবে৷
সমস্ত সরকারি অফিস আগামীকাল থেকে পুরো মাত্রায় শুরু হবে৷ সেক্ষেত্রে রোস্টার ভিত্তিতে কর্মীদের অফিসে যাওয়ার পদ্ধতি বাতিল করা হয়েছে৷ সকল সরকারি কর্মচারীদের কাল থেকে অফিসে যেতে হবে৷ তবে, এক্ষেত্রেও পারস্পরিক দূরত্ব এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে৷ শুধু তা-ই নয়, অফিসে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সময় হাত স্যানিটাইজ করার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে৷ এছাড়া, প্রতিনিয়ত অফিস স্যানিটাইজ করার নির্দেশও জারি করা হয়েছে৷ তবে অফিসে একত্রিত হয়ে বৈঠকে সবর্োচ্চ ২০ জনের উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷
সভা, সমাবেশ, মিছিল ইত্যাদিতে আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সিনেমা হল, সুইমিংপুল, পার্ক সমস্ত কিছু বন্ধ থাকবে৷ শেষকৃত্যে ২০ জন এবং বিয়ের অনুষ্ঠানে ৫০ জনের উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে৷ তবে, গণ-পরিবহণ আগামীকাল থেকে চালু হচ্ছে৷ সমস্ত নিজস্ব এবং বেসরকারি পরিবহণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে৷ করোনা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা বাদে সারা ত্রিপুরায় যাতায়াতে বিধিনিষেধ তুলে দেওয়া হয়েছে৷ এমন-কি, এক জেলা থেকে অন্য জেলায় যাতায়াতেও কোনও বিধিনিষেধ রাখা হয়নি৷ তবে, চালক, সহ-চালক এবং যাত্রীদের পারস্পরিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক রাখা হয়েছে৷

