আগরতলা, ৬ আগস্ট (হি.স.)৷৷ ত্রিপুরায় চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের অধ্যায়ের সমাপ্তি হল৷ বহুল চর্চিত ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত মামলা সুপ্রিমকোর্টে নিষ্পত্তি হয়েছে৷ শীর্ষ আদালত সমস্ত আবেদন খারিজ করে দিয়েছে৷ তবে নিয়ম মেনে আগামী ২০২৩ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চাকরিচ্যুতদের শিক্ষক পদে নিয়োগের সুযোগ দিয়েছে৷ কিন্তু শিক্ষকতায় নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অকৃতকার্যদের গ্রুপ-সি কিংবা গ্রুপ-ডি পদে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে তা কোনওভাবেই পদনমন হিসেবে বিবেচিত হবে না৷ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উদয় উমেশ ললিত এবং বিচারপতি বিনীত শরণের ডিভিশন বেঞ্চ শিক্ষক মামলায় এই রায় দিয়েছে৷
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সাল থেকে ১০৩২৩ চাকরিচ্যুত শিক্ষকরা আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন৷ ত্রিপুরা হাইকোর্ট ওই চাকরি বাতিল করে দিয়েছিল৷ তদানীন্তন বামফ্রন্ট সরকার হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছিল৷ কিন্ত দীর্ঘ শুনানি শেষে সুপ্রিমকোর্ট ত্রিপুরা হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছিল৷ তবে ত্রিপুরা সরকারের আবেদনে তাদের অ্যাডহক ভিত্তিতে নিয়োগ করার সুযোগ দিয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট৷ পরবর্তী সময়ে ত্রিপুরায় সরকার পরিবর্তনের পর পুনরায় তাঁদের অ্যাডহক ভিত্তিতে চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি হয়েছিল৷ সে মোতাবেক চলতি বছরের ৩১ মার্চ ওই সকল শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ সমাপ্ত হয়ে গেছে৷
সম্প্রতি সুপ্রিমকোর্টে পুনরায় একাধিক মামলা হয৷ সুপ্রিমকোর্ট চাকরিচ্যুতদের বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রশ্ণে ত্রিপুরা সরকারের কাছে হলফনামা চেয়েছিল৷ ত্রিপুরা সরকার হলফনামা দিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কে জানিয়েছে৷ তাতে বিজ্ঞাপন ছাড়া নিয়োগের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল৷ কিন্তু সুপ্রিমকোর্ট রায়ে সাফ বলেছে, সমস্ত নিয়ম মেনে নিয়োগ করা যাবে৷ তাছাড়া, চাকরিচ্যুত শিক্ষকদের ৩১ মার্চ ২০২৩ পর্যন্ত নিয়োগ প্রক্রিয়া মেনে শিক্ষক পদে নিয়োগে অনুমতি দিয়েছে৷ এক্ষেত্রে যাঁরা অকৃতকার্য হবেন তাদের গ্রুপ-সি কিংবা গ্রুপ-ডি পদে বিকল্প কর্মসংস্থান পদনমন বলে বিবেচিত হবে না৷

